অভিষেকের জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ, সোমবারের আগে বিদেশে যাওয়ার ছাড়পত্র নয় হাইকোর্টের

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বুধবার তাঁর এই জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবারের আগে এই আবেদনের শুনানি হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এদিন জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি উত্থাপন করেন অভিষেকের আইনজীবীরা। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মৌখিক পর্যবেক্ষণে বলেন, “দেশের মধ্যেও অনেক উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা করা সম্ভব।” আগামী ২৯ জুন, সোমবার ফের আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি উত্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
প্রেক্ষাপট ও আইনি জট
গত মে মাসে বাগুইআটির এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর সাইবার থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের শর্ত ছিল:
-
মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি গ্রেফতার হবেন না।
-
তবে আদালতের বিশেষ অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
-
কোথাও যেতে হলে তদন্তকারী অফিসারকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
এই রক্ষাকবচের শর্ত মেনেই বিদেশে যাওয়ার জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন ছিল তাঁর।
একের পর এক মামলায় বিড়ম্বনায় অভিষেক
ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে:
-
নিয়োগ দুর্নীতি মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির হাজিরা।
-
তৃণমূল বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির কাছে হাজিরা।
-
এছাড়া আমফান ত্রাণ দুর্নীতি ও সেবাশ্রয় ক্যাম্পে দুর্নীতির মতো একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে, যার ফলে প্রশাসনিক ও আইনি চাপের মুখে পড়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
সব মিলিয়ে একাধিক মামলার জাঁতাকলে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বিদেশ যাত্রার এই আবেদনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আপাতত সোমবার পর্যন্ত আদালতের নির্দেশেই তাঁকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।