“নভেম্বরে ছিল বিয়ে”-লখনউয়ের আগুনে পুড়ে খাক হাওড়ার অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী!

বিয়ের আর মাত্র চার মাস বাকি। দুই পরিবারে জোরকদমে চলছিল কেনাকাটা আর বিয়ের তোড়জোড়। গত সপ্তাহেই মেয়ের জন্য পাত্রপক্ষের বাড়িতে গিয়ে পাকা কথাও সেরে এসেছিলেন মা-বাবা। আগামী সপ্তাহে কলকাতায় আসার কথা ছিল হবু বরের বাড়ির লোকেদের। কিন্তু ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর পরিহাস! চার হাত এক হওয়ার আগেই লখনউয়ের এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ।

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের মেয়ে অনামিকা সামন্তর (২৭)। সেই সঙ্গে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছেন তাঁর হবু স্বামী নীলেশ কুমারও (২৮)। বুধবার অনামিকার দেহ জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার পৈতৃক বাড়িতে নিয়ে আসা হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন উপস্থিত সকলেই। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত সোমবারে?

লখনউয়ের অলিগঞ্জ এলাকার একটি আবাসনের দোতলায় অবস্থিত ‘হেড হপার স্টুডিওস’-এ কর্মরত ছিলেন অনামিকা। সেখানেই কাজ করতেন তাঁর হবু স্বামী নীলেশও। গত সোমবার আচমকাই ওই বহুতলে আগুন লেগে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে একটি ‘পেট শপ’ (পোষা প্রাণীর দোকান) ছিল। সোমবার প্রথমে ওই দোকানেই আগুন লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন গ্রাফের মতো ছড়িয়ে পড়ে দোতলার স্টুডিওতে। ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় বন্দি হয়ে যান অনামিকা ও নীলেশ। ঘটনাস্থলেই পুড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের।

‘মুখের কিছুটা অংশ দেখে শনাক্ত করতে হলো ভাইঝিকে…’

যদিও অনামিকার পৈতৃক বাড়ি জগৎবল্লভপুরে, কিন্তু কর্মসূত্রে তাঁরা সপরিবারে কলকাতার নিউ আলিপুরে থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় নিউ আলিপুরের বাড়িতে প্রথম পৌঁছায় অনামিকার এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর।

খবর পেয়েই রাতেই লখনউ রওনা হওয়ার চেষ্টা করেন অনামিকার পরিজনেরা। কিন্তু টিকিট না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে অনামিকার মা-বাবা, কাকা এবং ভাই লখনউ পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মর্গে গিয়ে অনামিকার নিথর দেহ শনাক্ত করেন তাঁরা।

অত্যন্ত ভারী গলায় মৃতার কাকা বলেন, “পুরো দেহটাই আগুনে ঝলসে গিয়েছিল, চেনার কোনো উপায় ছিল না। শেষে মুখের কিছুটা অংশ অবিকৃত দেখে ভাইঝিকে শনাক্ত করে দাদা-বৌদি।”

অনামিকার বাবা বিশ্বনাথ সামন্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন এবং মা সুলেখা সামন্ত গৃহবধূ। ভাই ও মা-বাবার মধ্যে অনামিকাই ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। মেয়ের এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না পরিবার। যে বাড়িতে বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই কান্নার রোল। অবহেলা নাকি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে লখনউ পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *