মমতা VS ঋতব্রত: কমিশনের দ্বারে বিদ্রোহী শিবির, ঘাসফুল প্রতীক কি এবার হাতছাড়া?

তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির? এই আইনি লড়াই এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দরজায়। মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর একাধিক শীর্ষ নেতা কলকাতার আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে দলের নতুন জাতীয় কমিটি সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দিলেন।

সম্প্রতি তৃণমূলের একটি ‘বিশেষ অধিবেশন’ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরিয়ে অরূপ রায়কে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করে ঋতব্রত শিবির। সেই সাংগঠনিক পরিবর্তনের আইনি বৈধতা দিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনে সরব হয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং আখরুজ্জামানের মতো নেতারা এদিন কমিশনের দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, “দলের গঠনতন্ত্র মেনেই সমস্ত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা যে নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করেছি, তার নথি দিল্লির পর আজ কলকাতার আঞ্চলিক দপ্তরেও জমা দিলাম। এটি একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া।”

দলীয় প্রতীক বা নির্বাচনী চিহ্ন ‘জোড়াফুল’ কার দখলে থাকবে, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন ঋতব্রত শিবির। তাঁদের দাবি, তাঁরাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী। তাই স্বীকৃতির জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। বিষয়টির ফয়সালা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁরা। ঋতব্রত বলেন, “কমিশন সমস্ত নথি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আপাতত কোনো জল্পনার প্রয়োজন নেই।”

গত কয়েক দিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে বহিষ্কার, পাল্টা বহিষ্কার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়ে রীতিমতো উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তবে এদিন ঋতব্রত শিবিরের নেতারা এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। উল্টোদিকে, দলের একটা বড় অংশের জনপ্রতিনিধি ও বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে বলে দাবি তুলেছেন তারা।

উল্লেখ্য, এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়া এবং মমতা শিবিরের সঙ্গে বিদ্রোহীদের আইনি লড়াইয়ের এই নজিরবিহীন ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে তৃণমূল কংগ্রেসের আগামীর ভাগ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *