তৃণমূলের নাম-প্রতীক কার? নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়ল ‘নব্য তৃণমূল’!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের লড়াই এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে। দলের নাম এবং প্রতীকের আইনি অধিকার চেয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলো ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়পন্থী ‘নব্য তৃণমূল’ শিবির। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার নির্বাচন কমিশন দফতরে গিয়ে নতুন কর্মসমিতির তালিকা জমা দিলেন নব্য তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা।
কমিশনে নব্য তৃণমূলের বড় পদক্ষেপ গতকাল নিউ টাউনের এক হোটেলে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান করে নতুন কর্মসমিতি গঠনের পরেই রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গিয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আজ কলকাতায় কমিশন দফতরে হাজির হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, জাভেদ খান এবং আখরুজ্জামানরা। জানা গেছে, কলকাতার পাশাপাশি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরেও আইনজীবী মারফত একই দাবিপত্র পাঠানো হয়েছে।
‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে লড়াই নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে নিজেদেরকেই ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করেছেন ঋতব্রতরা। তাদের যুক্তি, দলের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তারাই নতুন কর্মসমিতি গড়ে দলকে সঠিক পথে পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও নব্য তৃণমূলের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরও। গতকালই মমতা ঘনিষ্ঠ নেতারা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে নব্য তৃণমূলের গঠন করা কমিটিকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছিলেন।
ঋতব্রতর হুঁশিয়ারি এদিন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন, তারা পিছু হটতে রাজি নন। তিনি সরাসরি বলেন, “কারা আসল তৃণমূল, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে।” দুই শিবিরের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির বড় প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশন এই ইস্যুতে কী ভূমিকা নেয় এবং প্রতীক কার হাতে থাকে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।