“মহিলাদের জন্য সুবিধাই সুবিধা!”-ফ্রি বাস, অন্নপূর্ণা যোজনা ছাড়াও তালিকায় আর কী কী?

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই কি আমূল বদলে যাচ্ছে বাংলার মহিলাদের জীবনযাত্রা? মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা রাজ্য বাজেটে মহিলাদের ওপর বিশেষ নজর দিতে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য এল বড় সুখবর।
এক নজরে বাজেটের বড় প্রাপ্তি: বাজেটে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ করা প্রকল্পগুলি সত্যিই নজরকাড়া:
-
অন্নপূর্ণা যোজনা: এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মহিলারা এবার থেকে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি অনুদান পাবেন। এই খাতে চলতি অর্থবর্ষে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
-
বিধবা ও আশাকর্মীদের জন্য সুখবর: বিধবাদের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আশাকর্মীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার টাকা।
-
ছাত্রীদের জন্য অনুদান: স্নাতক স্তরে ভর্তির সময় অবিবাহিত ছাত্রীরা পাবেন এককালীন ৫০ হাজার টাকা।
-
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি: অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে এককালীন ২১ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। এছাড়া আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমার সুবিধা পাবেন মহিলারা।
-
কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা: সরকারি সমস্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে মহিলা পরিচালিত থানা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের নিয়ে বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে।
-
পরিবহণ সুবিধা: সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ফ্রি পরিষেবা চালু হচ্ছে, যার জন্য বরাদ্দ ৫৫০ কোটি টাকা। স্কুলগুলিতে বসানো হবে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন।
-
ঋণ সুবিধা: রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা গ্রান্ট বা অনুদান হিসেবে মিলবে এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা হবে সুদহীন ঋণ।
পরিবহণে নতুন গতি: রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, কলকাতায় আসতে চলেছে ‘ওয়াটার মেট্রো’। দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এই পরিষেবা চালু করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করবে রাজ্য। বেসরকারি নির্ভরতা কমিয়ে ট্রাম পরিষেবা বাড়ানো এবং সরকারি বাস সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের মতে: পরিবারের মহিলা সদস্যদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছালে তা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। বিরোধী রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে শুভেন্দু সরকারের এই ‘মহিলা-কেন্দ্রিক’ বাজেট বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।