“এক লাফে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি!”-জেনেনিন কি বলছেন সরকারি কর্মচারীরা?

রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এক লাফে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মীরা মোট ৩৮ শতাংশ ডিএ পাবেন। এই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মী মহলের একটি বড় অংশ খুশি হলেও, সংগঠনের অন্দরে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও রোডম্যাপ: বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার কর্মীদের সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলতে চায়। তিনি আরও বলেন, “বাকি থাকা ২২ শতাংশ ডিএ-র ব্যবধানও ধাপে ধাপে মেটানো হবে। আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছি। সব ঠিক থাকলে জানুয়ারি মাসেই সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে এবং এরপর অষ্টম বেতন কমিশনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।”
কর্মী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:
-
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ: এই সিদ্ধান্তে খুশি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ভাস্কর ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করে দিয়েছেন সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছু সম্ভব। তবে সরকারের সঙ্গে আমাদের অন্যান্য দাবি নিয়ে আলোচনা চলবে।”
-
সরকারি কর্মচারী পরিষদ: সভাপতি দেবাশিস শীল সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ডিএ নিয়ে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা সরকার দূর করায় তারা আশাবাদী।
-
কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ: এই সংগঠনের মলয় মুখোপাধ্যায় সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডিএ-র হার শূন্য রেখে ১৬ শতাংশের সঙ্গে ওই ৪ শতাংশ যোগ করাটা আসলে প্রবঞ্চনা। এছাড়া বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, অধিকার আদায়ে তাদের লড়াই আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে ডিএ-কে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাজপথে আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে রাজ্য। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কর্মীদের বাড়তি সুবিধা দিয়ে আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে কনফেডারেশনের কড়া অবস্থানের ফলে ডিএ আন্দোলন যে খুব সহজে স্তিমিত হবে না, তা স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি সরকারি কর্মীদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনলেও, সপ্তম বেতন কমিশন ও বাকি ২২ শতাংশ বকেয়া ডিএ নিয়ে আগামী দিনে সরকার বনাম কর্মচারী সংগঠনের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।