যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় হঠাৎ কেন জরুরি অধিবেশন? নেপথ্যে কি লেবানন যুদ্ধ?

সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষিতে আলোচনার মূলসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একটি ‘বিশেষ জরুরি অধিবেশন’। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কেন এই জরুরি অধিবেশন? দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা প্রশমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন ১৪-দফা সমঝোতা স্মারক নিয়ে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই লেবাননে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ইরান অভিযোগ করে যে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এই অস্থিরতা নিরসনে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে রক্ষা করতেই আলোচনার প্রারম্ভে একটি জরুরি অধিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কৌশলে বড় পরিবর্তন বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনার আলোচ্যসূচিতে সরাসরি ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতকে জায়গা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন পরোক্ষভাবে এই সংঘাতের সমাধানে ইরানকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চাইছে। এদিকে, আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আপাতত লেবাননে সামরিক হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

মধ্যস্থতায় কাতার ও পাকিস্তান সুইজারল্যান্ডে ইতিমধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদল পৌঁছে গেছেন। সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই জটিল শান্তি প্রক্রিয়ায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যদিও ইসরায়েল বা হিজবুল্লাহ এই আলোচনার সরাসরি অংশ নয়, তবে তাদের মধ্যকার চলমান লড়াইটিই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

ইরানের জাতীয় স্বার্থ আলোচনার বিষয়ে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ জানিয়েছেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবে। তিনি মিনাব স্কুল হামলায় নিহত শিশুদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই তাদের কূটনৈতিক অবস্থান ঠিক করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *