হাসপাতালের বেড থেকে সোজা NEET পরীক্ষা! ৯টি হাড় ভাঙা যন্ত্রণাকে জয় করলেন অদম্য সৃষ্টি

শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ করে স্বপ্নের পথে অবিচল এক তরুণী। পথ দুর্ঘটনায় পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙে চুরমার, ফুসফুসে গুরুতর আঘাত, তবু হার মানেননি সৃষ্টি দুবে। হাসপাতালের বেড থেকে সোজা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে NEET পরীক্ষায় বসে যেন নজির গড়লেন তিনি। সৃষ্টির এই অদম্য মানসিক দৃঢ়তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটদুনিয়া।

কী ঘটেছিল সৃষ্টির সঙ্গে? গত ১৪ জুন এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সৃষ্টি। দুর্ঘটনার তীব্রতায় তাঁর পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙে যায় এবং ফুসফুসে মারাত্মক আঘাত লাগে। প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা দ্রুত ভাসকুলার সার্জারি করেন এবং তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়ে এলেও তিনি দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্বপ্নপূরণে মরিয়া সৃষ্টি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নই তাঁকে বেঁচে থাকার রসদ জোগাচ্ছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও NEET পরীক্ষা দেওয়ার সংকল্প থেকে একচুল নড়েননি তিনি। পরিস্থিতি বুঝে সৃষ্টির বাবা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাছে আবেদন জানান। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার সবরকম সরঞ্জাম এবং প্যারামেডিক স্টাফ দিতে প্রস্তুত। সৃষ্টি যাতে নিচতলার একটি ঘরে পরীক্ষা দিতে পারেন, সেই অনুরোধ জানানো হয়।

NTA ও শিক্ষামন্ত্রীর মানবিক মুখ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে NTA। ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস হাই স্কুলে সৃষ্টির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষা চলাকালীন মেডিকেল সাপোর্ট ও একটি স্ট্যান্ডবাই অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। পরীক্ষা শেষ হতেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সৃষ্টির এই লড়াইয়ের খবর পৌঁছায় খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে। তিনি স্বয়ং সৃষ্টির বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তরুণীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। শিক্ষামন্ত্রীর এই পদক্ষেপে আবেগপ্রবণ সৃষ্টির পরিবার। প্রশাসনিক সাহায্য এবং নিজের জেদের জোরে আজ সৃষ্টি প্রমাণ করলেন—মনে জোর থাকলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই জয়ের পথে বাধা হতে পারে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *