সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ অতীত! বদলে যাওয়া রাস্তায় কার নাম? চিনে নিন গোপাল মুখোপাধ্যায়কে

কলকাতার মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন! দীর্ঘদিনের পরিচিত পার্ক সার্কাসের ‘সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউ’-এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। গত ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে কলকাতা পুরসভার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে বাংলার ইতিহাসের এক বিশেষ অধ্যায়।
কে এই গোপাল মুখার্জি?
গোপাল মুখার্জি, যিনি বৃহত্তর জনমানসে ‘গোপাল পাঁঠা’ নামে অধিক পরিচিত, ছিলেন ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়ের এক আলোচিত চরিত্র। কলকাতার বুকে ভয়াবহ দাঙ্গার সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ‘ভারত জাতীয় বাহিনী’ গঠন করে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। অনেক ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় মানুষের মতে, সেই সময় দাঙ্গার হাত থেকে বহু হিন্দু পরিবারকে রক্ষা করতে তিনি এবং তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দাঙ্গা প্রতিরোধে তাঁর এই ভূমিকা আজও ইতিহাসের পাতায় এক বিতর্কিত কিন্তু চর্চিত অধ্যায়।
কে ছিলেন হাসান সোহরাওয়ার্দী?
যাঁর নামে এই রাস্তাটি এতকাল পরিচিত ছিল, সেই হাসান সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীর কাকা। তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রিটিশদের অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত হাসান সোহরাওয়ার্দীকে ‘স্যর’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি, ১৯৩২ সালে বিপ্লবী বীণা দাস কর্তৃক গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনের ওপর হামলার সময় তাঁকে বাঁচানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
নাম পরিবর্তনের কারণ কী?
দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন মহল। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও পুরসভা এই ঐতিহাসিক স্থানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল। অনেকের মতেই, এটি বাংলার ইতিহাসের বিতর্কিত সময়ের এক নতুন মূল্যায়ন।