দলের টাকায় জেতা বিধায়ক এখন তদন্তকারী? সন্দীপন সাহাকে কুণালের কড়া হুঁশিয়ারি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন আরও দাউদাউ করে জ্বলছে। দলের প্রতীক ও আর্থিক সহায়তায় জিতে এখন সেই দলেরই আর্থিক হিসাবের তদন্ত চাওয়ায় বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ করলেন কুণাল ঘোষ।
মূল বিতর্কটি কী? সম্প্রতি বহিষ্কৃত এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা নির্বাচনী প্রচারের জন্য দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন কুণাল। তিনি বলেন, “সন্দীপন সাহা নির্বাচনের সময় মোট ২৭ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছিলেন। যার ২৫ লক্ষ টাকাই এসেছে দলের তহবিল থেকে। দলের টাকায় ভোটে জেতার পর আজ সেই অ্যাকাউন্টেরই তদন্ত চাইছেন তিনি। এই টাকা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের কাছে ফেরত দেওয়া উচিত।”
বিদ্রোহী বিধায়কদের পাল্টা অভিযোগ অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, বিধায়কদের কাছে দলের তহবিলের উৎস নিয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য নেই। ঋতব্রতর কথায়, “আমরা জানতে চাই এই টাকা কি কাটমানি, নাকি সরকারি তহবিল থেকে সরানোর টাকা? দিল্লি যাওয়ার জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪-৫ কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে, অথচ সাধারণ কর্মীদের আইনি লড়াইয়ের জন্য দলের কাছে অর্থ নেই। সবকিছুরই তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
অচল তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট! দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের জেরে পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস সরাসরি ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ১২ জুন একটি চিঠিতে তিনি এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন, যতক্ষণ না উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিষয়টির সুরাহা করছে, ততক্ষণ যেন দলের কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে ডেবিট লেনদেন না করা হয়।
তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনের বিদ্রোহ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থনের পর এই সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে কুণাল ঘোষের দাবি, বিরোধীদের সাজানো ষড়যন্ত্রেই এই তদন্তের দাবি উঠছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক ও আইনি এই টানাপোড়েনের শেষ কোথায়।