“মেয়ে জন্মানোর অপরাধে…?”-শাশুড়ির নিষ্ঠুরতার কথা ফাঁস করলেন পূজা চোপড়ার মা

অভিনেত্রী ও প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া পূজা চোপড়ার মা নীরা চোপড়া সম্প্রতি এক রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে তাঁর জীবনের এক চরম বাস্তব ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন। রাজীব খান্ডেলওয়াল সঞ্চালিত ‘তুম হো না – ঘর কি সুপারস্টার’ (Tum Ho Naa – Ghar Ki Superstar) শো-তে তিনি বর্ণনা করেছেন, পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়িতে ঠিক কতটা চরম লাঞ্ছনা ও অবহেলার শিকার হয়েছিলেন তিনি।
মেয়ে হওয়ার পরই বদলে যায় আচরণ
নীরা জানান, বিয়ের প্রথমদিকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও, প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পর থেকেই তাঁর প্রতি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। এরপর শাশুড়ি ক্যানসারে আক্রান্ত হলে তিনি সেবা-শুশ্রূষাও করেছিলেন। কিন্তু শাশুড়ি তাঁকে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “তুমি যদি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিতে পারো, তবেই এই বাড়ির পরিবেশ ভালো হবে।”
হাসপাতালে তিন দিন একা, অন্যের কাপড়ে বেঁচেছিলেন পূজা
৭ বছর পর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান অর্থাৎ পূজার জন্মের পর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। নীরা বলেন, দ্বিতীয় মেয়ের জন্মের পর তাঁর শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্য হাসপাতালে তাঁকে দেখতে পর্যন্ত আসেননি। তিন দিন ধরে তিনি সম্পূর্ণ একা ছিলেন।
তিনি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, হাসপাতালের এক পরিচারিকা পাশে থাকা এক অফিসারের স্ত্রীর কাছ থেকে তাঁর ছেলের পোশাক এনে নবজাতক পূজাকে পরিয়েছিলেন। এক মা হিসেবে সেই সময়টা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক ছিল, তা আজও ভোলা সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে।
প্রত্যাশা ও ঘুরে দাঁড়ানো
নীরা চোপড়া জানান, শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার সময় তিনি তাঁদের স্পষ্ট বলেছিলেন, “আজ তোমরা যে মেয়েটিকে মেরে ফেলার কথা বলছ, একদিন এই মেয়েটির জন্যই তোমরা গর্ববোধ করবে।” আজ তাঁর মেয়ে পূজা চোপড়া প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী এবং প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া। পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে নীরা যে সফলতার পথে দুই কন্যাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তা আজ অসংখ্য মায়েদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।