‘প্রক্সিদের সামলাও, নয়তো কঠিন পরিণতি’-ইরানকে ফের কড়া বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের

সুইৎজ়ারল্যান্ডে যখন আমেরিকা ও ইরান একগুচ্ছ কূটনৈতিক সমস্যা মেটাতে আলোচনায় ব্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তেই তেহরানকে নতুন করে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে হেজবোল্লার কার্যকলাপ নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি অবিলম্বে তাদের প্রক্সিদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে আমেরিকার আঘাত হবে গত সপ্তাহের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল বার্তা রবিবার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ইরানকে অবশ্যই অবিলম্বে লেবাননে তাদের চড়া বেতনের প্রক্সিদের ঝামেলা পাকানো বন্ধ করতে হবে। যদি তারা তা না করে, তবে আমরা গত সপ্তাহের মতো ইরানকে খুব জোরে আঘাত করব, শুধু এবার তা হবে আরও ভয়াবহ!”

কূটনৈতিক বৈঠকের দোলাচল ট্রাম্পের এই হুমকি যখন আসছে, তখন চলতি মাসেই স্বাক্ষরিত একটি মউ (MoU)-এর ভিত্তিতে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা সুইৎজ়ারল্যান্ডে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় বসেছেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালীর স্থিতিশীলতা এবং পরমাণু কর্মসূচি—এই আলোচনার মূল ভিত্তি। আমেরিকার লক্ষ্য, ৬০ দিনের এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজে বের করা।

কী বলছে হোয়াইট হাউস? মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা আশাবাদী। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গত কয়েক দিনে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ভ্যান্সের কথায়, “এই ধরণের যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল হয়ই। তবে আমরা লেবাননের স্থিতিশীলতাকে আঞ্চলিক শান্তি স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছি।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরান যদি তাদের অস্থিতিশীল নীতি ত্যাগ করে, তবে ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার (Turn over a new leaf) পথে হাঁটতে প্রস্তুত।

ইরানের পাল্টা শর্ত অন্যদিকে, ইরানও চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ। তেহরানের দাবি:

  • পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার আগে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।

  • চুক্তি অনুযায়ী যে অর্থনৈতিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।

  • হরমুজ প্রণালীতে ইরান ফের অবরোধ আরোপ করেছে, যাকে তারা লেবানন ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।

একদিকে শান্তি আলোচনার টেবিলে কূটনীতি, অন্যদিকে ট্রাম্পের রণহুঙ্কার—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন, এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত শান্তি নাকি সংঘাতের দিকে মোড় নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *