তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড়: অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হতেই ঋতব্রত-কুণাল সম্মুখসমরে!

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। দলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের একাধিক বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিল সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, ফ্রিজ হওয়া ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে এবং বিরোধী শিবিরে প্রবল চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ঋতব্রতর দাবি ও আক্রমণ: তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার নেপথ্যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। অরূপ বিশ্বাসের নাম টেনে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে সরব হয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, “তৃণমূলের ওই বিপুল অংকের তহবিলে কাটমানি ও চুরির টাকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অবিলম্বে তদন্ত হোক এবং সত্য সামনে আসুক।”

কুণাল ঘোষের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: ঋতব্রতর এই মন্তব্যের পরই গর্জে উঠেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ঋতব্রতকে নিশানা করে তিনি বেনজির আক্রমণ শানিয়েছেন। কুণালের প্রশ্ন, “ঋতব্রত আগে স্পষ্ট করে বলুক, এই তথাকথিত ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টের টাকা আসলে কার? কবে কোন ব্যাঙ্কে এই টাকা জমা পড়েছে, তার ভিত্তিহীন অভিযোগ করার আগে সবটা পরিষ্কার করুক।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের অভিযোগ এবং সেই সূত্রে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার ঘটনা তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। পঞ্চায়েত থেকে নির্বাচন—এমন পরিস্থিতিতে দলের তহবিল সংক্রান্ত এই জটিলতা তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা।

এই পরিস্থিতির ওপর দিকে নজর রাখছে রাজ্যের রাজনৈতিক সচেতন মহল। ঘটনার জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *