বাজেটেই মিটবে বকেয়া ডিএ-র জট? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম বাজেট পেশ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। ২২ জুন ২০২৬ তারিখে পেশ হতে চলা এই বাজেটকে ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে তুঙ্গে প্রত্যাশা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর, বকেয়া ডিএ (DA) মেটানো বা নতুন ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও বর্তমান পরিস্থিতি গত ১ জুন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন:
-
সপ্তম পে কমিশনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
-
ইতিপূর্বে প্রায় ৩ লক্ষ কর্মী ও পেনশনারদের বকেয়া পাওনা মেটানো হয়েছে।
-
বাকি থাকা বকেয়া অংশ পর্যায়ক্রমে মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
-
সবথেকে বড় কথা, ডিএ সংক্রান্ত বিষয়গুলো ২২ জুনের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে নিজেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনের বার্তা রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল সরকারি কর্মীদের এই বিষয়ে কিছুটা ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যেকোনো অফিসিয়াল ঘোষণার জন্য ২২ জুন বাজেট পেশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়। সরকারের এই সাবধানী অথচ ইতিবাচক অবস্থান কর্মীদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।
কর্মীদের প্রত্যাশা কতটুকু? বর্তমানে বিজেপি সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। সরকারি কর্মীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বাজেটে কেবল বকেয়া ডিএ-র ঘোষণা নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিএ বৃদ্ধির কোনো বড় প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে সরকার। বেতন কাঠামোয় কোনো বড় পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে সবার।
এখন দেখার বিষয়, ২২ জুনের বাজেটে সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রেক্ষিতে সরকার কী বার্তা দেয়। বাজেটের দিনই স্পষ্ট হবে কর্মজীবনের আর্থিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সরকার নতুন কোনো পথের দিশা দেখাতে পারে কি না।