“২০২৭-এর আগে চক্রান্ত!” স্টিং অপারেশনের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন মায়াবতী, দিলেন কড়া বার্তা

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। একটি কথিত স্টিং অপারেশনকে কেন্দ্র করে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) এবং তার সুপ্রিমো মায়াবতীকে নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ময়দানে নামলেন মায়াবতী। তিনি সরাসরি এই ঘটনাকে আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর দল ও নেতৃত্বকে কালিমালিপ্ত করার একটি ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। মায়াবতীর দাবি, বিএসপির ক্রমবর্ধমান জনভিত্তি দেখে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ ভীত।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ মায়াবতী দাবি করেন, বিএসপি কোনো ধনিক বা পুঁজিপতিদের ইশারায় চলে না। এটি অম্বেডকরবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একটি দল, যা দলীয় কর্মীদের অনুদান ও সমর্থনে পরিচালিত হয়। তিনি স্পষ্ট করেন, বিএসপির প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং বহুমাত্রিক। প্রার্থীর সামাজিক অবস্থান, রাজনৈতিক দক্ষতা এবং দলের প্রতি আনুগত্য যাচাই করার জন্য দলের কর্মীরা নিয়মিত বৈঠক ও স্ক্রিনিং করেন। মায়াবতীর কথায়, “অন্যান্য দলের মতো আমরা বড় পুঁজিপতিদের টাকা বা নির্দেশে চলি না। আমাদের শক্তির উৎস হলো আমাদের জনগণ।”
মায়াবতী আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশ বিরোধীদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএসপির প্রার্থী বাছাই পদ্ধতি নিয়ে ভিত্তিহীন প্রশ্ন তুলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি বিশ্বনাথ পাল থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা ২০২৭-এর নির্বাচনের জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচিতি যাচাই করার জন্য তাঁদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যা অনেকটা আদালতের জেরা বা ‘ক্রস-এক্সামিনেশন’-এর মতো। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এই জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
দলীয় কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে মায়াবতী বলেন, “বিরোধীরা আমাদের সংগঠন ও জনসমর্থন দেখে আতঙ্কিত। তাই তারা নানা ফন্দি ফিকির করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আপনারা এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেবেন না।” তিনি স্পষ্টভাবে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, সমস্ত গুজব উপেক্ষা করে ‘মিশন ২০২৭’-এর চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজে আত্মনিয়োগ করতে।
মায়াবতীর এই কঠোর অবস্থান ও স্পষ্টবার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএসপি এখন কোনোভাবেই নমনীয় নয়। এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়। তবে মায়াবতীর এই পাল্টা আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।