বাজি হেরেও মুখে হাসি জেরোধার সিইও-র! ৩০ কেজি ওজন কমিয়ে চমক দিলেন কর্মী, পেলেন পুরস্কার

কথায় আছে, শরীর ঠিক থাকলে সব ঠিক থাকে। এই আপ্তবাক্যটিকেই যেন নতুন করে প্রমাণ করলেন শেয়ার ব্রোকিং সংস্থা ‘জেরোধা’-র এক কর্মী। সংস্থাটির সিইও নীতিন কামাথ নিজেই জানিয়েছেন, অফিসের এক ফিটনেস চ্যালেঞ্জে বাজি হেরে তিনি আড়াই লক্ষ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন তাঁর এক কর্মীকে। সিইও নিজে বাজি হেরেও বেজায় খুশি, কারণ এই বাজি তাঁকে শেখাল যে, টাকার চেয়েও স্বাস্থ্যের দাম অনেক বেশি।

ঘটনার সূত্রপাত জেরোধার কন্টেন্ট ও মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট রোহিত আগরওয়ালার একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকে। গত এক বছরে কঠোর পরিশ্রম ও নিয়ম মেনে রোহিত নিজের ওজন কমিয়েছেন ৩০ কেজি। এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তনের জন্য সিইও নীতিন কামাথ তাঁকে আড়াই লক্ষ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। নীতিন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমি একটি ফিটনেস বাজি হেরেছি, এবং এতে আমি অত্যন্ত খুশি।”

রোহিত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে লিখেছেন, এই নগদ অর্থ তাঁর কাছে বড় বিষয় ছিল না। তিনি বলেন, “টাকাটা গৌণ। সবথেকে বড় পাওনা হলো আমার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। জেরোধার মতো কর্মক্ষেত্র না থাকলে হয়তো এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না।” ভিডিওতে রোহিত জানিয়েছেন, ছয় মাস আগে ১৫ জন সহকর্মী মিলে একটি চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল জানুয়ারির মধ্যে ওজন ৯৫ কেজি থেকে কমিয়ে ৭৫ কেজিতে আনা। এপ্রিলে ১০৪ কেজি ওজনের রোহিত জুনে চ্যালেঞ্জের সময় ৯৫ কেজিতে নামিয়ে আনেন। ৮ জানুয়ারির মধ্যে তিনি ৭৪.৫ কেজিতে পৌঁছে লক্ষ্যভেদ করেন।

এই পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা নীতিন কামাথ ও রোহিত—উভয়কেই প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই একে ‘হারার সেরা বাজি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্যোক্তা অঙ্কুর ওয়ারিকুও এই উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “জীবনটা তো জেতেই গেলেন! স্বাস্থ্যই আসল সম্পদ।” জেরোধার এই ফিটনেস সংস্কৃতি এখন কর্পোরেট জগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *