জেল থেকে সোজা পরীক্ষা কেন্দ্রে! ১৮ বছর বয়সী অভিযুক্তকে বিশেষ ছাড় দিল পকসো আদালত

দীর্ঘ আইনি লড়াই আর কারাবাসের মাঝেও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি। NEET (UG) পুনর্নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ অভিযুক্তকে চার দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিল মুম্বইয়ের একটি বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত। বিএসএন (BNS) এবং পকসো আইনের আওতায় গুরুতর অভিযোগে নভি মুম্বইয়ের তালোজা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি ছিল ওই কিশোর। তবে তার শিক্ষাজীবনের কথা মাথায় রেখে বিশেষ বিচারক এস আর শর্মা এই মানবিক রায় ঘোষণা করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন ওই কিশোরের আইনজীবী কপিল বিশ্বাস জোড়ে আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আইনজীবীর যুক্তি ছিল, অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চললেও অপরাধী বা অভিযুক্তের পুনর্বাসনের সুযোগ থাকা উচিত। বিশেষ করে যুবসমাজের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও উন্নতির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। আইনজীবী আদালতকে জানান, পুলিশি পাহারায় থেকে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ওই তরুণ মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত, তাই পরীক্ষার স্বার্থে তার খানিকটা ব্যক্তিগত সময় প্রয়োজন।
যদিও সরকারি আইনজীবী চৈতালি পানশিকার ওই কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগের গভীরতা বিবেচনা করে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর পরামর্শ ছিল, একমাত্র পুলিশি পাহারায় তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারক এস আর শর্মা অভিযুক্তের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্র এবং ইতিপূর্বে দেওয়া পরীক্ষাগুলোর তথ্য যাচাই করে স্পষ্টতই জানান, তার পরীক্ষায় বসার বিষয়টি এক ‘বৈধ ভিত্তি’র ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আদালত বুঝতে পেরেছে, একজন তরুণের কেরিয়ারের প্রশ্নে মানবিক দৃষ্টিকোণ বজায় রাখা প্রয়োজন।
জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালত ৫০,০০০ টাকার বন্ডের শর্ত বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে:
পরীক্ষার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ ২২ জুন দুপুর ২টার মধ্যে তাকে ফের জেলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
জমানত চলাকালীন সে কোনোভাবেই নির্যাতিতার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না বা তাকে ভয় দেখাবে না।
মামলার সাথে যুক্ত কোনো প্রমাণের সাথে সে কোনো রকম কারচুপি করতে পারবে না।
তাকে একটি অঙ্গীকারনামা দিতে হবে যে সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে এবং ফিরে এসে উপস্থিতির প্রমাণপত্র দাখিল করবে।
নির্যাতিতার পক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা না করায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করেছে। বিচারকের এই ভারসাম্যপূর্ণ রায় আইনি মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেও, শিক্ষাকে অধিকারের জায়গা থেকে দেখার প্রশ্নে আদালতের এই মানবিকতা প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখন দেখার, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত তার ভবিষ্যৎ গঠনের পথে কতটা এগোতে পারে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, বিচারের লক্ষ্য কেবল শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সঠিক সুযোগ পেলে সংশোধনের রাস্তাও উন্মুক্ত করা।