সিন্ধু জল চুক্তিতে বড় বদল আনছে ভারত? রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করে কড়া বার্তা।

রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার পরিষদে (UNHRC) ফের একবার পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অযৌক্তিক অভিযোগের জবাবে ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ব্যবহার করে, তারা সহযোগিতা বা বন্ধুত্বের ভিত্তিতে করা কোনো চুক্তির সুবিধা পাওয়ার আশা করতে পারে না।
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের সচিব অনুপমা সিং অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তুলে ধরেন যে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে অনেকটাই সেকেলে হয়ে পড়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ছয় দশক আগের একটি চুক্তির ব্যাখ্যা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে এড়িয়ে করা সম্ভব নয়। ভারত আরও জোর দিয়ে বলে যে, একদিকে পাকিস্তান ক্রমাগত সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যদিকে ভারতের কাছ থেকে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহযোগিতার প্রত্যাশা করছে—এই দ্বিচারিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত এদিন পাকিস্তান এবং অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন (OIC)-এর যাবতীয় ভিত্তিহীন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতীয় কূটনীতিক অনুপমা সিং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন, জম্মু-কাশ্মীর ছিল, আছে এবং চিরকালই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যাবে। ভারতের বক্তব্য, বর্তমানে আলোচনার একমাত্র আলোচ্য বিষয় হলো পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডগুলিকে মুক্ত করা। ভারত অভিযোগ করেছে যে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচার চালিয়ে নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও অর্থনৈতিক দৈন্য ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তাদের এই পুরোনো কৌশল যে এখন আর কার্যকর নয়, তা এদিন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, সম্প্রতি পহেলগামে হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারত কড়া অবস্থান নিয়েছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, যতক্ষণ না পাকিস্তান তার মাটি থেকে সন্ত্রাসবাদের শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সিন্ধু জল চুক্তির বিভিন্ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হবে। ভারতকে নিশানা করার বদলে পাকিস্তানকে নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট ও মানবাধিকার পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চ থেকে পাকিস্তানকে ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন স্টেট’ বা ‘সন্ত্রাসের কারখানা’ হিসেবে অভিহিত করে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আপস করার নীতি ভারত আর মেনে নেবে না। ভারতের এই কড়া ও স্পষ্ট অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।