জেলের ভেতরেই হোটেল! মাছ-মাংস-মটন বিক্রি করে কোটিপতি গ্যাংস্টার, উড়িষ্যার জেলে চাঞ্চল্যকর হদিস

ওড়িশার চৌধুরী জেল বা চৌদ্বার সার্কেল জেলে এক অভূতপূর্ব দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হয়েছে। কুখ্যাত গ্যাংস্টার ধলসামন্ত গ্যাংয়ের অন্যতম সহযোগী লিটুয়া বেহেরা জেলে বসেই যেভাবে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল, তা শুনে স্তম্ভিত খোদ প্রশাসন। জেল চত্বরে লিটুয়ার বিলাসবহুল ‘থার’ গাড়ি প্রবেশ করানো এবং সেখানে রিল তৈরির ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্তে জানা গেছে, কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরেই চলছিল একটি বিশাল ‘ভিআইপি সিস্টেম’, যেখানে টাকার বিনিময়ে মিলত রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা।
সূত্রের খবর, জেলের ভেতরেই লিটুয়া বেহেরা একটি আস্ত রেস্তোরাঁ চালিয়ে যাচ্ছিল। জেলের সাধারণ খাবারের মেনু যেখানে নামমাত্র, সেখানে লিটুয়ার ‘হোটেল’-এ প্রতিদিন মাছ, চিকেন, মাটন, পনির ও মাশরুমের মতো জিভে জল আনা খাবার তৈরি হতো। প্রতিদিন প্রায় ৫০ জন বন্দির জন্য এই খাবারের জোগান দেওয়া হতো। তদন্তে জানা গেছে, সন্তোষ ওরফে সর্দার কাউ নামক এক বন্দি এই পুরো রান্নার দায়িত্বে ছিল। ‘মেনু কার্ড’ অনুযায়ী, দুই টুকরো মাছ বা তিন টুকরো চিকেনের প্লেট বিক্রি হতো ৩০০ টাকায়, মাটন প্লেটের দাম ছিল ৫০০ টাকা এবং পনির বা মাশরুমের দাম ছিল ২৫০ টাকা। পলিথিনে মোড়ানো সেই খাবার রাতের অন্ধকারে পৌঁছে যেত পছন্দের বন্দিদের ব্যারাকে। বাইরে থেকে শহরের বিশেষ দোকান থেকে আনা হতো ছানা ও মিষ্টি।
কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বন্দি বাইরের খাবার গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু এখানে লাভের অংক এতোটাই বেশি ছিল যে, সমস্ত জেল ম্যানুয়ালকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই বেআইনি ব্যবসা রমরমিয়ে চলছিল। ডিআইজি (কটক রেঞ্জ) অনুসূয়া জেনা যখন আকস্মিক তল্লাশি চালান, তখন লিটুয়ার কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার হয়। অভিযোগ, সেই সময় লিটুয়া ডিআইজিকে পর্যন্ত ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল, যা জেলের ভেতরে থাকা অপরাধীদের চরম দুঃসাহসের পরিচয় দেয়।
এখন বড় প্রশ্ন উঠছে, জেল সুপারের মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নাকের ডগায় কীভাবে জেলের ভেতরে থার গাড়ির মতো বড় গাড়ি ঢুকল এবং বছরের পর বছর ধরে একটি হোটেল চলল? ওয়ার্ডেনদের বয়ান অনুযায়ী, ওপরতলার নির্দেশে গাড়িটিকে অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কারা দপ্তর এখন খতিয়ে দেখছে, এই ভিআইপি সিস্টেমের নেপথ্যে ঠিক কোন কোন আধিকারিক বা রক্ষী সরাসরি যুক্ত রয়েছে। এই ঘটনার পর জেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গ্যাংস্টারের এই ‘রাজকীয়’ জীবনযাপনের কাহিনী ওড়িশার প্রশাসনিক মহলে এক বিরাট অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে