ব্রিকস বৈঠকের মঞ্চে ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলবে? দিল্লিতে পা রাখছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই

নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় নিতে চলেছে ভারত-চীন সম্পর্ক। আগামী ২২ ও ২৩ জুন দিল্লিতে বসতে চলেছে ব্রিকস (BRICS) দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের (NSA) ১৬তম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এই বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লিতে আসছেন চীনের বিদেশমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিক ওয়াং ই। ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে তাঁর এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন, যার সভাপতিত্ব করবে ভারত। সেই প্রেক্ষাপটে এই এনএসএ বৈঠকটিকে প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বছরের ব্রিকস প্রেসিডেন্সি ভারতের হাতে থাকায় দিল্লি এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের প্রভাব আরও জোরালো করতে চাইছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লিতে থাকাকালীন চীনের এই শীর্ষনেতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে পারেন। সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে এই আলোচনায় কোনো সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে কূটনৈতিক মহল।
বর্তমান অস্থির বিশ্বে গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্রিকস সদস্য দেশগুলো বিশ্বশান্তি রক্ষা, বহুপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চীনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, চীন তাদের ব্রিকস সহযোগীদের সাথে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমন্বয় বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত আগ্রহী। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ব্রিকস দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তা এই বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
ব্রিকস-এর সদস্যতালিকা এখন অনেক দীর্ঘ। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে এই গোষ্ঠীতে যুক্ত হয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই বর্ধিত সদস্যসংখ্যা গোষ্ঠীর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের মাটিতে আয়োজিত এই বৈঠকটি কেবল নিরাপত্তার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরের একাধিক জটিল সমস্যার সমাধান নিয়েও এখানে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে চলা উত্তেজনার আবহে এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসের শীর্ষ সম্মেলনের আগে কোনো বড় কূটনৈতিক সাফল্য বা পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরির সুযোগ তৈরি হয় কি না, তা দেখার বিষয়। বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়া। নয়াদিল্লির এই কূটনৈতিক আয়োজনে উপস্থিত সকল সদস্য দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা একমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বশান্তির বার্তাই দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।