ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় উলটপুরাণ! ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয়ে কোণঠাসা কিয়ার স্টারমার

ব্রিটেনের রাজনীতিতে কি পরিবর্তনের হাওয়া বইছে? মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিশাল জয় সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম ২৪,৯২৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিফর্ম ইউকে পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১৫,৬৯৬টি ভোট। এই জয়ের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এখন লেবার পার্টির অন্দরে সবচেয়ে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হলেন।
‘কিং অফ দ্য নর্থ’ হিসেবে পরিচিত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়ের পরেই নিজ দলের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, এটি দলের আমূল পরিবর্তনের শেষ সুযোগ। বার্নহ্যামের মতে, গত ৪০ বছরের অর্থনৈতিক নীতি সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সরকারি পরিষেবাকে শক্তিশালী করার এবং আমূল ঢেলে সাজানোর পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার। দীর্ঘ সময় ধরেই জল্পনা ছিল যে, তিনি কিয়ার স্টারমারের উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে নামবেন, আর এবারের জয় সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করল।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা রেকর্ড হারে নিম্নমুখী। দুই বছর আগে বিপুল জয়ের সাথে ক্ষমতায় আসা স্টারমার বর্তমানে নীতি নির্ধারণে দ্বিধা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং দুর্বল নেতৃত্বের অভিযোগে জর্জরিত। দলের অন্দরেও তার অবস্থান বেশ নড়বড়ে। জানা গেছে, লেবার পার্টির প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমপি স্টারমারকে পদত্যাগের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমনকি প্রতিরক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতো সিনিয়র মন্ত্রীরা তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের সংবিধান অনুযায়ী, নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ শুরু করতে হলে অন্তত ৮১ জন বা ২০ শতাংশ এমপির সমর্থনের প্রয়োজন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারমারের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বার্নহ্যামের পথ মসৃণ নয়। ব্রিটেন বর্তমানে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং অভিবাসন সমস্যা নিয়ে চরম অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এই অসন্তোষের পূর্ণ ফায়দা তুলছে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে পার্টি। অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান নিয়ে রিফর্ম ইউকে বর্তমানে জাতীয় জনমত জরিপে বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এমতাবস্থায়, স্টারমার ঘোষণা করেছেন যে, নেতৃত্বের পরীক্ষা হলে তিনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে এই লড়াই লেবার পার্টিকে বড় ধরনের বিভাজন এবং বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আগামীর দিনগুলো ব্রিটেনের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।