‘অগ্নিমিত্রাকে নিয়েও কটূক্তি করেছেন কাকলি!’ পুরনো ক্ষোভ উগরে তোপ দাগলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আনা ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের’ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে কল্যাণ নাম না করেই কাকলিকে বিঁধে বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ। আসলে ভিকটিম কার্ড খেলার চেষ্টা চলছে।’’

সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শর্মিলা সরকারের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে কল্যাণের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন বারাসতের সাংসদ কাকলি। এমনকি কল্যাণের বিরুদ্ধে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও ওঠে।

কী বললেন কল্যাণ? মঙ্গলবার হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দলের চিফ হুইপ পদে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই এই টানাপড়েনের সূত্রপাত। তিনি বলেন, ‘‘৬ মে-র পর থেকেই উনি (কাকলি) দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন। আমাকে চিফ হুইপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই মূলত সমস্যা দানা বাঁধে। এর পিছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে।’’

অগ্নিমিত্রা প্রসঙ্গ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিজেকে ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে কল্যাণ তুলে আনেন ২০১১ সালের পার্ক স্ট্রিট-কাণ্ডের প্রসঙ্গ। পাশাপাশি, এদিন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের প্রশংসাও শোনা যায় কল্যাণের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘অগ্নিমিত্রা খুব ভালো পরিবারের মেয়ে। তাঁর বাবা ডা. অশোক রায়কে আমি ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা করি। তাঁকেও (অগ্নিমিত্রা) বিভিন্ন সময় কটূক্তি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন কাকলি।’’

সংসদের অন্দরের চাঞ্চল্যকর দাবি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা উল্লেখ করলেও কল্যাণের গলায় এখন আক্ষেপ। তিনি জানান, ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে তাঁদের পরিচয়। কিন্তু বর্তমান এই তিক্ত সম্পর্কের কারণ তিনি জানেন না। এখানেই থামেননি কল্যাণ। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, সংসদের ভেতরেও কাকলি ঘোষ দস্তিদার প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। কল্যাণের কথায়, ‘‘সংসদে আমার পিছনে বসে প্রধানমন্ত্রীর পোশাক নিয়েও তিনি কটাক্ষ করতেন।’’

তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *