কাশির সিরাপ নিয়ে কড়া নিয়ম! এবার থেকে ওষুধ কিনতে লাগবে চিকিৎসকের পরামর্শ

কাশির সিরাপের অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার মন্ত্রক থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রি করা যাবে না।

কেন এই কঠোর নিয়ম? দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশির সিরাপ খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়া, এমনকি মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা বারবার সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং ওষুধ বিক্রির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’ সংশোধনের পথে হাঁটল কেন্দ্র।

কী পরিবর্তন এল নিয়মে? এতদিন ‘তপশিল কে’ (Schedule K)-এর ১৩ নম্বর এন্ট্রির অধীনে এক হাজারের কম জনসংখ্যাবিশিষ্ট গ্রামগুলিতে লাইসেন্স ছাড়াই কাশির সিরাপ বিক্রির ছাড় ছিল। কিন্তু নতুন সংশোধনীতে ‘তপশিল কে’-র ওই এন্ট্রি থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটি পাকাপাকিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে, এখন থেকে গ্রামীণ এলাকা বা শহর—যেখানেই হোক, কাশির সিরাপ বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।

সাধারণ মানুষের জন্য নির্দেশিকা: মন্ত্রকের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র যথাযথ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসি বা ওষুধের দোকান থেকেই কাশির সিরাপ কেনা যাবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট, ১৯৪০’-এর বিধান মেনে পরিচালিত হবে। অর্থাৎ, ওষুধের দোকানদারদের এখন থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন যাচাই করেই কাশির সিরাপ বিক্রি করতে হবে।

এই পদক্ষেপের ফলে দেশের সর্বত্র কাশির সিরাপের অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ হবে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *