সর্বদলীয় বৈঠকে ‘ব্রাত্য’ তৃণমূলের একাংশ! বিধানসভায় নতুন সমীকরণে আত্মবিশ্বাসী ঋতব্রত

বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ। এই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, ডাক পাননি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষের মতো নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কার্যত বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
‘স্বীকৃতি ৩ তারিখেই পেয়েছি’: বৈঠক শেষে আত্মবিশ্বাসী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাফ জানান, ‘‘স্বীকৃতি আমরা ৩ জুনই পেয়ে গেছি, আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে।’’ তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব দেওয়া ঋতব্রত ফ্লোর টেস্টের দাবি তুলে বলেন, ‘‘দুধ কা দুধ, পানি কা পানি হয়ে যাক। ফ্লোর টেস্ট হোক, সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে।’’
সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্ব: বিধানসভায় বিরোধীদের প্রাপ্য গুরুত্ব নিয়ে এদিন সরব হন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর চলতে পারে না। গত ১৫ বছরে অনেক বিধায়ক একবারও বলার সুযোগ পাননি। ১০ বছর মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে রাখা গণতন্ত্র হতে পারে না। আমরা অভ্যাস বদলাতে চাই। আশা করব, শাসক দল বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেবে।’’
সরকারের প্রতিক্রিয়া: যদিও এই সর্বদলীয় বৈঠকে বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষও জানিয়েছেন যে, বিরোধী দল হিসেবে তাঁদের ডাকা হয়েছে এবং সংসদীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই কাজ করা হবে।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে চলা বিধানসভার পূর্ণাঙ্গ বাজেট অধিবেশনের আগে এই ধরণের ‘আলাদা’ বৈঠক এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতর দাবিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।