জেপ্টো থেকে ৫০ হাজারের অ্যাপল ওয়াচ কিনে চরম প্রতারণার শিকার বীর দাস! আসল না নকল?

দ্রুত ডেলিভারির জন্য পরিচিত অ্যাপ জেপ্টো (Zepto) ঘিরে শুরু হয়েছে চরম বিতর্ক। সম্প্রতি জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও অভিনেতা বীর দাস অভিযোগ করেছেন যে, জেপ্টো থেকে ৫০,০০০ টাকা দিয়ে কেনা একটি অ্যাপল ওয়াচ আসলে নকল। জনপ্রিয় এই কুইক-কমার্স অ্যাপের মাধ্যমে আসল পণ্যের পরিবর্তে নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

কী ঘটেছিল?
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বীর দাস। তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, “আমি কি ভুল বলছি, নাকি সব অ্যাপল ওয়াচই দেখতে এরকম? নাকি জেপ্টো শুধু চীনা নকল পণ্য বিক্রি করে মজা করছে?”

অভিনেতা জানান, শুটিংয়ের জন্য তাদের একটি অ্যাপল ওয়াচ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল। কিন্তু জেপ্টো থেকে আসা পণ্যটি দেখে তারা স্তম্ভিত হয়ে যান। অভিযোগ, কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করার পরেও তারা কোনো সদুত্তর পাননি, উল্টো জানানো হয় যে তারা এই বিষয়ে কিছু করতে পারবে না।

জেপ্টোর সাফাই:
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হতেই নড়েচড়ে বসে জেপ্টো কর্তৃপক্ষ। তারা পাল্টা পোস্টে লিখেছে, “আমরা এই ধরনের বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। ইতিমধ্যেই আমরা পণ্যটির রিভার্স পিকআপের ব্যবস্থা করেছি।”

সংস্থাটির দাবি, এটি তাদের তদন্তের প্রক্রিয়ার একটি অংশ। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তাও দিয়েছে জেপ্টো। তারা জানিয়েছে, ডেলিভারির সময় গ্রাহকের ওটিপি (OTP) শেয়ার করার আগে প্যাকেজের সিল এবং পণ্যের অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেপ্টো।

আপনি কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
অনলাইন শপিংয়ে এই ধরনের প্রতারণা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন:

সিরিয়াল নম্বর চেক: অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (checkcoverage.apple.com) বা অ্যাপল সাপোর্ট পেজে যান।

সিরিয়াল নম্বর যাচাই: ডিভাইসের প্যাকেজিং বা সেটিংসে থাকা সিরিয়াল নম্বরটি ওই লিঙ্কে ইনপুট করুন।

ফলাফল: সাবমিট করার সাথে সাথেই আপনি জানতে পারবেন পণ্যটি অরিজিনাল কি না।

উল্লেখ্য, বীর দাসের এই পোস্টের পর থেকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা জেপ্টোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এই ঘটনার পর কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে দামী ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনা কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে।