১ কোটি টাকার ঋণ মেটানোর বদলে বন্ধুর মাথায় পাথর! জয়পুরে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের নৃশংসতায় শোরগোল

প্রায় ১ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের হাত থেকে বাঁচতে নিজের বন্ধুকেই খুনের অভিযোগ উঠল এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের (CA) বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের জয়পুরে। অভিযুক্ত বন্ধু সীতারাম শর্মার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করেছে ব্যবসায়ী বন্ধু হরিশঙ্করকে।

কীভাবে ঘটল নৃশংস হত্যাকাণ্ড?
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ১৩ই জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন ব্যবসায়ী হরিশঙ্কর। পরদিন তার ভাই প্রহ্লাদ শর্মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, টাকার লেনদেন নিয়ে হরিশঙ্করের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল তার বন্ধু সীতারামের। হরিশঙ্কর তার প্রাপ্য টাকা ফেরত চাইলে সীতারাম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ১৩ই জুন হরিশঙ্করকে টাকা দেওয়ার নাম করে ডেকে নেয় সে। এরপর ধারালো পাথর দিয়ে আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

খুনি সেজে সাজানো নিখোঁজ নাটক
হত্যাকাণ্ড চালিয়েই সীতারাম বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। হরিশঙ্করের ফোনের দখল নিয়ে সে নিজের নম্বর থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস পোস্ট করে, যাতে মনে হয় হরিশঙ্কর নিখোঁজ এবং এতে সীতারাম উদ্বিগ্ন। গ্রামবাসীরা প্রথমে তার এই নিখোঁজ নাটক বিশ্বাসও করেছিলেন।

মৃতদেহ নিয়ে সারারাত ঘোরাঘুরি
হত্যার পর মৃতদেহ গোপন করতে ১৪ই জুন সীতারাম এক বন্ধুর কাছ থেকে গাড়ি ধার নেয়। ট্রাঙ্কে মৃতদেহ নিয়ে সারা রাত সে উপযুক্ত জায়গার সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। শেষমেশ ব্যর্থ হয়ে ১৫ই জুন ভোর ৪টার দিকে অন্য এক বন্ধুকে ফোন করে সাহায্য চায় এবং তাকে ১০ লক্ষ টাকার লোভ দেখায়। কিন্তু সেই বন্ধু বিষয়টি বুঝে ফেলায় সাহায্য না করে সঙ্গে সঙ্গে শিবদাসপুরা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশের তৎপরতায় গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত সীতারাম। তার কাছ থেকে ৬.৫০ লক্ষ টাকা এবং খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ঋণের চাপই কি কাল হলো?
ডিসিপি রাজর্ষি রাজ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সীতারাম একটি হোস্টেল নির্মাণ করছিল। ওই নির্মাণের জন্য সে হরিশঙ্করের কাছ থেকে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী ধার নিয়েছিল। সব মিলিয়ে পাওনার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা। এই বিশাল ঋণ পরিশোধের চাপেই সে এই জঘন্য পথ বেছে নেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় হরিশঙ্করের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তিন নাবালিকা কন্যার দায়িত্ব ছিল তারই কাঁধে। পিতার এই নৃশংস মৃত্যুতে বর্তমানে অনাথ হয়ে পড়ল তিন শিশু কন্যা। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে।