রাজগীরে জোড়া খুন নাকি গণপিটুনি? নালন্দায় দুই যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের দানা!

বিহারের রাজগীরে দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তাল এলাকা। ঘটনাটি ঘটেছে রাজগীর থানা এলাকার ঝুঙ্কিয়া বাবা মন্দিরের কাছে। সোমবার সকালে চুরির অভিযোগে দুই যুবককে স্থানীয়রা নির্মমভাবে মারধর করে বলে অভিযোগ, যার জেরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বিপরীতে মৃতদের পরিবারের দাবি—এটি নিছক গণপিটুনি নয়, বরং একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’।
কী ঘটেছিল সোমবার?
সোমবার সকালে ঝুঙ্কিয়া বাবা মন্দির চত্বরের কাছে দুই যুবককে চুরির সন্দেহে আটক করে জনতা। এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে রাজগীর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে পাটনার পিএমসিএইচ (PMCH)-এ স্থানান্তর করা হয়, সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মৃত দুই যুবকের নাম পিন্টু কুমার (২২) এবং শ্রাবণ কুমার (২২)। তারা দীপনগর থানা এলাকার গঞ্জপারের বাসিন্দা ছিলেন।
পরিবারের দাবি: ষড়যন্ত্রের গন্ধ
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের প্রাথমিক বিবরণে বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, পিন্টু ও শ্রাবণ কোনো চুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাদের বাড়ি থেকে মালমাস মেলায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল স্থানীয় কিছু মানুষ। পরে তাদের চোর সাজিয়ে মন্দিরের কাছে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবার এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে।
কী বলছেন মহন্ত?
অন্যদিকে, মন্দিরের মহন্ত শরণ জি মহারাজ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই মন্দির চত্বরে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছিল। গত ৮ ও ১৩ জুন মন্দিরে বড় অঙ্কের টাকা চুরি হয়। সোমবার সকালে চারজন চুরির উদ্দেশ্যে এসেছিল বলে দাবি করেন মহন্ত। স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করলে দুজন পালিয়ে যায়, আর বাকি দুজন ধরা পড়ে। মহন্তের দাবি, মন্দির চত্বরে কোনো সহিংসতা হয়নি এবং অভিযুক্তদের অক্ষত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের তদন্ত ও পরিস্থিতি
রাজগীরের ডিএসপি সঞ্জিত কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদ্ঘাটনে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেলে ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।
তবে নিহতদের পরিবারের তোলা এই ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগ পুলিশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।