মমতার হাত থেকে কি ফস্কে যাচ্ছে তৃণমূল? দিল্লি থেকে কলকাতা—চরম সংকটে ঘাসফুল শিবির!

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদের বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের দখল নিতে দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত এক সুপরিকল্পিত ছক কষা হয়েছে, যা মমতা ব্যানার্জীর অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।
দিল্লি-কলকাতা দুই প্রান্তেই কোণঠাসা মমতা
তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মমতা ব্যানার্জীকে দুই দিক থেকে ঘেরাও করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। একদিকে রাজ্যে বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক দল ছেড়েছেন। বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই কলকাতায় তৃণমূল বিধায়ক দলের বিভাজন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ঋতব্রতর দাবি, দলের ব্লক স্তর থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরেই এই ভাঙন ছড়িয়ে পড়বে। তাঁরাই এখন নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করছেন এবং এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য—তৃণমূলের দলীয় প্রতীক ও সম্পত্তির ওপর অধিকার কায়েম করা।
সাংসদদের বিদ্রোহ ও এনসিপিআই যোগ
শুধু রাজ্যেই নয়, দিল্লিতেও মমতা ব্যানার্জী বড় ধাক্কা খেয়েছেন। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছেন। এনসিপিআই-এর সভাপতি শিউলি কুন্ডুর পদত্যাগের পর, তৃণমূলের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির সভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্রোহীরা নিজেদের একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
মমতা ব্যানার্জীর সামনে এখন দুটি বড় আইনি লড়াই:
কলকাতা ফ্রন্ট: নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নিজের বৈধতা প্রমাণ করা।
দিল্লি ফ্রন্ট: বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদকে দলত্যাগ বিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানানো।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এমনকি নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক বাজেয়াপ্ত করে দুই গোষ্ঠীকে আলাদা প্রতীকও বরাদ্দ করতে পারে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই কৌশলকে বিরোধীদের একটি বড় চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তৃণমূলকে দীর্ঘমেয়াদী আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত রেখে সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার পরিকল্পনা চলছে, যাতে নির্বাচনের সময় বিদ্রোহী সাংসদ ও মুসলিম নেতৃত্ব সহজেই বিজেপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলে ভিড়তে পারেন।
সব মিলিয়ে, তৃণমূলের অন্দরের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।