তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ! স্পিকারের তলব পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। বিক্ষুব্ধ সাংসদদের তৎপরতা ঠেকাতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই চিঠির সূত্র ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেইল পাঠালেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত রবিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের দফায় দফায় বৈঠকের খবর সামনে আসে। একই সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানানোর তোড়জোড় শুরু করেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংসদ কীর্তি আজাদ ও সাগরিকা ঘোষ স্পিকারের বাড়িতে গিয়ে পৃথক কোনো গোষ্ঠী তৈরিবিরোধী চিঠি জমা দেন। অভিষেকের পাঠানো ওই চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, তৃণমূলের কোনো বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। কারণ, সাংসদরা দলত্যাগ বিরোধী আইন লঙ্ঘন করে নতুন দল তৈরির দাবি করতে পারেন না।

অভিষেককে স্পিকারের তলব:
সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই আপত্তির প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর দুটোর সময় স্পিকারের অফিস থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি ইমেইল পৌঁছায়। সেখানে চিঠির বিষয়টি বিস্তারিত জানতে এবং অভিষেককে বিকেল চারটে নাগাদ দেখা করতে বলা হয়।

জটিলতায় অভিষেক:
ঘটনাচক্রে, সোমবার ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের কারণে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। এরপর মঙ্গলবারও ‘ডিজে মন্তব্য’ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হয়েছে। পরপর সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকায় স্পিকারের এই তলবের প্রেক্ষিতে তিনি কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত:
তৃণমূলের দাবি, কোনো অবস্থাতেই বিধিবহির্ভূতভাবে গোষ্ঠী তৈরি মানা হবে না। চিঠিতে অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের ‘সুভাষ দেশাই বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্যপাল’ মামলার রায়ের প্রসঙ্গ টেনে স্পষ্ট করেছেন যে, দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী দল কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে অভিষেকের এই সম্ভাব্য সাক্ষাত বা চিঠির আদান-প্রদান তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট মেটাতে কতটা কার্যকর হয়।