রাজ্যে তোলাবাজি-বিরোধী অভিযান! জালে একের পর এক তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই ‘তোলাবাজি’ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট নির্দেশ—রাজ্যে কোনো প্রকার তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। এই বার্তার পর থেকেই কলকাতা থেকে বাঁকুড়া, ব্যারাকপুর থেকে শহরতলি—একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতারির ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
সাম্প্রতিক অভিযান ও গ্রেফতারি:
ব্যারাকপুর: রবিবার তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ব্যারাকপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শুকুর আলি পুরকায়েতকে। তাঁর বাড়িতে পুলিশি অভিযানে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ১০-১২টি জমির দলিল উদ্ধার হয়েছে।
কলকাতা: তোলাবাজির অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছেন কলকাতা পুরসভার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য ও তাঁর স্বামী। ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে।
বাঁকুড়া: তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুশুয়া রায় এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ের ছেলে অনিন্দ্য রায়। খাত্রা মহকুমা আদালতে ধৃতদের তোলা হয়েছে।
সুশান্ত ঘোষ কাণ্ড: হকারদের থেকে তোলাবাজির অভিযোগে আনন্দের আনন্দপুর থানার এফআইআর-এর ভিত্তিতে কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের গাড়ি চালক সুজিত চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, সুশান্ত ঘোষের হয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা তোলাবাজি করতেন সুজিত। রুবির মোড় থেকে আরবানা পর্যন্ত এলাকায় বেআইনি স্টল বসিয়ে এই টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। সুশান্ত ঘোষ বর্তমানে ফেরার।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
রাজ্যের বর্তমান শাসকদল গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, তোলাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই তৃণমূল কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্য, ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে প্রাক্তন বিধায়ক—কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্য পুলিশের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করে যে, ছোট থেকে বড়—যেকোনো স্তরের নেতা যদি অবৈধ উপায়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের আইনের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক গ্রেফতারি একদিকে যেমন শাসকদলের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে, তেমনই বিরোধী মহলে বিজেপির এই ‘তোলাবাজি-বিরোধী’ পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।