“আধার কার্ড থাকলেই মিলবে সরকারি সুবিধা!”-জনকল্যাণ শিবিরে উপচে পড়া ভিড়, জেনে নিন সময় ও নিয়মাবলী

রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জনকল্যাণ শিবির’ ঘিরে সাধারণ মানুষের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। পরিষেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে আয়োজিত এই বিশেষ শিবিরটি গত ১৫ জুন থেকে শুরু হয়েছে এবং ১৭ জুন (বুধবার) পর্যন্ত চলবে।

কোথায় ও কতগুলি শিবির? রাজ্যজুড়ে প্রায় ১,১০০-এরও বেশি স্থানে এই শিবির আয়োজিত হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে বিন্যাসটি করা হয়েছে নিম্নরূপ:

  • কর্পোরেশন এলাকা: প্রতিটি বোরো অফিসের জন্য একটি শিবির।

  • পুরসভা এলাকা: প্রতি ১০টি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে শিবির।

  • গ্রামীণ এলাকা: প্রতি ৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য একটি শিবির। কোনো ব্লকে ৮টি পঞ্চায়েত থাকলে সেখানে ২টি শিবির করা হয়েছে।

শিবিরের সময় ও নিয়ম প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শিবির খোলা থাকছে। শিবিরে পরিষেবা পাওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো আধার কার্ডের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন। এরপরই আপনার প্রয়োজনীয় প্রকল্পের কাউন্টারে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ও প্রকল্পসমূহ: এই শিবির থেকে মোট ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মিলছে। প্রধান পরিষেবাগুলো হলো:

  • পরিচয় ও আর্থিক: আধার এনরোলমেন্ট, আধার সিডিং এবং ব্যাঙ্কে জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা।

  • খাদ্য সুরক্ষা: অন্নপূর্ণা যোজনা, পিএম গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা এবং রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা।

  • স্বাস্থ্য: আয়ুষ্মান যোজনা (আয়ুষ্মান ভারত)।

  • কৃষক কল্যাণ: পিএম কিষান সম্মান নিধি, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড ও এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

  • বীমা ও পেনসন: প্রধানমন্ত্রী জীবনজ্যোতি বীমা যোজনা, পিএম সুরক্ষা বিমা যোজনা ও অটল পেনশন যোজনা।

  • অন্যান্য: পিএম উজ্জ্বলা যোজনা, সিএএ (CAA) অ্যাপ্লিকেশন এবং পড়ুয়াদের স্কলারশিপ সংক্রান্ত সহায়তা।

কেন এই শিবির এত গুরুত্বপূর্ণ? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতে, নাগরিক পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পড়া থেকে শুরু করে মহিলা, কৃষক—সকলের জন্য এখানে সহায়তাকারী উপস্থিত রয়েছেন। বুধবারই শিবিরের শেষ দিন, তাই যারা এখনো তাদের নাম নথিভুক্ত করাননি, তাদের দ্রুত নিকটবর্তী শিবিরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।