প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না কাশির সিরাপ! নিয়মে বড়সড় কড়াকড়ি আনল কেন্দ্র

কাশির সিরাপসহ অন্যান্য সিরাপ বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে কেন্দ্র সরকার। ১৯৪৫ সালের ‘ড্রাগস রুলস’-এ বড়সড় সংশোধনী এনেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। ২০২৬ সালের ৯ জুন এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে যে কোনো সিরাপ কেনার ক্ষেত্রে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ কড়াকড়ি? সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে বিষাক্ত কাশির সিরাপ সেবনের ফলে একাধিক শিশুর মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই ওষুধের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। সিরাপ জাতীয় ওষুধের অবাধ বিক্রি রুখতে এবং গুণমান নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কী পরিবর্তন এসেছে? সংশোধিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
-
প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক: এতদিন অনেক কাশির সিরাপ সরাসরি ফার্মেসি থেকে কেনা যেত। সংশোধিত নিয়মে ওষুধের তালিকা থেকে ‘সিরাপ’ শব্দটিকে এক বিশেষ শ্রেণীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে এখন প্রেসক্রিপশন ছাড়া সাধারণ দোকান থেকে সিরাপ পাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
-
তদারকি ও নজরদারি: সিরাপের উৎপাদন এবং বিক্রির ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। সারাদেশের প্রতিটি ফার্মেসিকে এখন থেকে এই সংশোধিত নিয়মাবলী অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।
দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর রূপায়ণ গত বছর ৩০ ডিসেম্বর এই বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব জনসমক্ষে আনা হয়েছিল। জনসাধারণের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের পর, সেই সমস্ত মতামত পর্যালোচনা করে ২০২৬ সালের ৯ জুন চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব হর্ষ মঙ্গলা।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব এই নিয়মের ফলে সিরাপ জাতীয় ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের কিছুটা বাড়তি সময় ব্যয় করতে হতে পারে ঠিকই, কিন্তু জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও বিষাক্ত ওষুধের মারণঝুঁকি কমাতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল। এখন থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ বা অনুমোদন ছাড়া আর কোনো কাশির সিরাপ সরাসরি বিক্রির অনুমতি নেই।
সম্পাদকের টিপস: আপনি যদি নিয়মিত কোনো সিরাপ ব্যবহার করেন, তবে পরবর্তীবার কেনার সময় অবশ্যই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখুন, নাহলে ফার্মেসি থেকে তা পাওয়া সম্ভব হবে না।
কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তকে কি আপনি সমর্থন করেন? কাশির সিরাপের অপব্যবহার রুখতে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে বলে আপনার মনে হয়? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।