বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ড! অভিষেক ও কুণালকে মুখোমুখি জেরা CID-র, বয়ানে অসঙ্গতি নিয়ে জোর চর্চা!

বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল সিআইডি (CID)। রবিবার টানা আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, জেরার সময় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্নে দুজনের বয়ানে মারাত্মক অমিল বা অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

জেরার কেন্দ্রে কী কী প্রশ্ন?
তদন্তকারী সংস্থা মূলত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকের রেজোলিউশন ও সইয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সিআইডি সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য:

রেজোলিউশন গ্রহণ: বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের সময় কোনো আনুষ্ঠানিক রেজোলিউশন গৃহীত হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অভিষেক ও কুণালের বক্তব্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। অভিষেক দাবি করেছেন রেজোলিউশন নেওয়া হয়েছিল, অন্যদিকে কুণালের দাবি, তেমন কোনো রেজোলিউশনই হয়নি।

রেজোলিউশন বুকের খোঁজ: সেই রেজোলিউশন বুক বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অভিষেক জানিয়েছেন তিনি এ বিষয়ে অবগত নন, বরং অফিসের কর্মীরাই ভালো বলতে পারবেন। উল্টোদিকে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, বিধায়ক হিসেবে ওই নথির অবস্থান জানার দায়িত্ব তাঁর নয়।

সইয়ের রহস্য: ৭০ জন বিধায়কের যে সই-সহ চিঠি জমা দেওয়া হয়েছিল, তা কারা এবং কখন করেছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তরেও দুজনের বয়ানে উল্লেখযোগ্য ফারাক পাওয়া গেছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি:
অভিযোগ, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্পিকারের নির্দেশে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে থাকা একাধিক সই জাল। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় ও অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে এখনও পর্যন্ত মূল রেজোলিউশন বুকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে সিআইডি-র একটি দল বিধানসভায় গিয়ে প্রধান সচিবের কার্যালয় থেকে বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করেছে। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধী শিবির। সই জালিয়াতি কাণ্ডের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে সিআইডি কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।