অভিষেকের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটির মাটি পাচারের অভিযোগ! এফআইআর দায়ের বিজেপি নেতার

কয়লা পাচার থেকে নিয়োগ দুর্নীতি—রাজ্যের বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের নাম উঠে আসার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন আইনি জটে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হলো লিখিত এফআইআর (FIR)। সোমবার রাতে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের কালীতলা আশুলিয়া থানায়।
কাদের নাম রয়েছে অভিযোগে?
অভিযোগের আঙুল উঠেছে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। বিজেপির স্থানীয় নেতা তথা বিগত লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী অভিজিৎ বিশ্বাস (ববি) এই এফআইআর-এ কেবল অভিষেককেই নয়, মোট ২৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তালিকায় রয়েছেন অভিষেকের পলাতক আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিষ্ণুপুরের জেলবন্দি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলও।
অভিযোগের মূল কথা:
অভিজিৎ বিশ্বাসের দাবি, ২০১৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৬৩ বিঘা জমির মাটি বেআইনিভাবে কেটে চোরাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিজেপি নেতার মতে, এই বিশাল অঙ্কের দুর্নীতির বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। বিশেষ করে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই অবৈধ কারবার তুঙ্গে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
অকাট্য প্রমাণের খোঁজে স্যাটেলাইট ছবি:
কেবল মৌখিক অভিযোগ নয়, এ যাত্রায় অকাট্য তথ্য-প্রমাণ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিযোগকারী। বিজেপি নেতা পুলিশের কাছে ওই বিতর্কিত এলাকার বিভিন্ন সময়ের উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) জমা দিয়েছেন। সেই ছবিতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে, কীভাবে দিনের পর দিন দেদার মাটি কেটে এলাকাটিকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে এবং তার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও ভূমিক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আগের মামলা ও প্রতিক্রিয়া:
এর আগে ২০২০ সালে আমফানের ত্রাণ হিসেবে আসা ত্রিপল বেআইনিভাবে দলের কার্যালয়ে মজুত করার অভিযোগ তুলেছিলেন এই ববি। সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। আজ থানা থেকে বেরিয়ে বিজেপি নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সাংসদ এ মাটির মানুষ নন, তাই এই মাটির মূল্য উনি বোঝেন না। স্থানীয় প্রশাসন এতদিন এই অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল, কিন্তু আমরা এবার নতুন করে প্রামাণ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ জানালাম।”
এই মাটি পাচার মামলায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই বিষয়ে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।