১০ হাজারের ভাতায় কোটি টাকার প্রাসাদ? অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির উৎস নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

সন্তোষপুর অ্যাভিনিউয়ের ১৭৫/১ ঠিকানাটি এখন স্থানীয়দের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সদর দরজায় প্রকান্ড হাতির মাথার আদল, আর তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল অট্টালিকা—যাকে এলাকাবাসী এক ডাকে চেনেন ‘হাতি বাড়ি’ নামে। আর এই বিলাসবহুল প্রাসাদের বাসিন্দা হলেন কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আভিজাত্যে মোড়া এই বাড়ির জাঁকজমক দেখে প্রশ্ন উঠছে—একজন কাউন্সিলরের আয়ের সাথে কি এই বিপুল সম্পত্তির কোনো সামঞ্জস্য আছে?
চোখ ধাঁধানো অন্দরমহল:
স্থানীয়দের দাবি, চার বছর আগেও যেখানে একটি সাধারণ দোতলা বিয়েবাড়ি ছিল, সেখানেই এখন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে চারতলার এই প্রাসাদ। মার্বেল পাথরে মোড়া এই বাড়ির অন্দরমহলে রয়েছে অত্যাধুনিক লিফট, কাচ দিয়ে ঘেরা ‘গ্লাস রুম’ এবং বহুমূল্য আসবাবপত্র। বাড়ির এই জাঁকজমক যে কোনো রাজপ্রাসাদকেও হার মানায়।
সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন:
একজন পুর-কাউন্সিলরের মাসিক সরকারি ভাতা যেখানে মাত্র ১০ হাজার টাকা, সেখানে কোটি টাকার এই নির্মাণ নিয়ে সরব হয়েছেন সমালোচকরা। যদিও অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনয়ের সাথে যুক্ত এবং বেশ কিছু সিরিয়াল ও সিনেমায় তাঁকে দেখা গিয়েছে, তবুও অভিনয়জীবনের আয় দিয়ে এত বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই। সম্পত্তির প্রকৃত আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ:
এই ইমারতকে ঘিরে আইনি বিতর্কও নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছিলেন যে, কাউন্সিলর এই বাড়িটি নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করেছেন। নথিপত্র পেশ করে তাঁর দাবি ছিল, মিনু রানি ভাওয়াল নামে এক মহিলার থেকে কেনা দোতলা বাড়িটিকে নিয়ম না মেনেই পাঁচতলায় উন্নীত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পিছনের জমি দখল করে সেখানে আরও একটি ইমারত তুলে সামনের বাড়ির সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিজেপি নেতার তোলা এই অভিযোগের কোনো আইনি নিষ্পত্তি এখনও না হলেও, সন্তোষপুরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এই ‘হাতি বাড়ি’ শহরজুড়ে এক রহস্য ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল—প্রত্যেকেই এখন এই বিলাসবহুল সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে উত্তরের অপেক্ষায়।