পুজো দিতেই রক্তদান! ওমকারেশ্বর মন্দিরের ‘ভিআইপি দর্শন’ মডেল সারা দেশে সাড়া ফেলল

ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ও মানবসেবার মেলবন্ধন ঘটিয়ে মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ায় এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ওমকারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের কালেক্টর ঋষভ গুপ্তের বিশেষ উদ্যোগে এমন এক ‘তীর্থযাত্রা মডেল’ চালু করা হয়েছে, যা একইসঙ্গে ভিআইপি দর্শন সহজতর করেছে এবং ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্তের ঘাটতি মিটিয়ে তৈরি করেছে উদ্বৃত্ত ভাণ্ডার।
কী এই ‘ওমকারেশ্বর মডেল’?
সাধারণত বড় মন্দিরগুলোতে ভিআইপি দর্শনের জন্য টিকিট কিনতে হয়, যা অনেক সময় ভক্তদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি করে। কিন্তু এখানে নিয়মটি সম্পূর্ণ আলাদা। মন্দিরের কাছেই প্রশাসনের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ রক্তদান শিবির। এখানে মাত্র ২০ মিনিট সময় ব্যয় করে রক্তদান করলে একজন ভক্তকে একটি শংসাপত্র দেওয়া হয়। এই শংসাপত্রটি দেখালেই দাতা ও তাঁর পরিবার দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়েই মন্দিরে তাৎক্ষণিক ভিআইপি প্রবেশের সুযোগ পান। দর্শনের পর তাঁদের দেওয়া হয় প্রসাদ ও ভগবান ওমকারেশ্বরের প্রতিকৃতি।
সাফল্যের খতিয়ান:
এই উদ্যোগের ফলে খান্ডওয়া জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে বিপ্লব ঘটে গেছে:
রক্তের উদ্বৃত্ত মজুত: বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১৫০ ইউনিট রক্ত সংগৃহীত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১৬৮ ইউনিট রক্ত পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই সংগৃহীত হয়েছে রেকর্ড ৪৯৭ ইউনিট।
বিরল রক্তের গ্রুপ: এবি-নেগেটিভ, ও-নেগেটিভের মতো অত্যন্ত বিরল গ্রুপের রক্তের বিশাল মজুত গড়ে উঠেছে।
ঘাটতি জয়: মেডিকেল কলেজ খোলার পর প্রতি মাসে যে ১,২০০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হতো, তা এখন সহজেই পূরণ হচ্ছে।
ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মানবসেবার মিলন
ডঃ অতুল মানে (ইন-চার্জ, ব্লাড ব্যাংক) জানান, হিন্দু ধর্মে দানশীলতার যে মাহাত্ম্য রয়েছে, তা এই উদ্যোগকে আরও জনপ্রিয় করেছে। বিশেষ করে ‘অধিক মাস’ বা পুরুষোত্তম মাসের সময় ভক্তরা স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে এসেছেন। এখন এই অতিরিক্ত রক্তের চাহিদা মেটানোর জন্য মেডিকেল কলেজে একটি পৃথক ব্লাড ব্যাংক তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
ভারতের অন্যান্য তীর্থস্থানের ভিআইপি সংস্কৃতি যেখানে অর্থকেন্দ্রিক, সেখানে খান্ডওয়ার এই ‘রক্তদান মডেল’ জনকল্যাণে বিশ্বাসের ব্যবহারের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে। এটি কেবল ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে না, বরং সংকটাপন্ন রোগীদের জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।