বিশ্বের নতুন ‘শান্তি দূত’ কাতার! আমেরিকা-ইরান সংঘাত থেকে গাজা—সবখানেই বাজিমাত দোহা-র

বিশ্বরাজনীতির মানচিত্রে কাতার এখন আর কেবল একটি ছোট উপসাগরীয় দেশ নয়। বরং যখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় যুদ্ধ, কূটনৈতিক বিবাদ বা আন্তর্জাতিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখনই সমাধানের কাণ্ডারি হিসেবে উঠে আসে দোহা। আর এই নীরব কূটনীতির নেপথ্যের প্রধান কারিগর হলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি।
কেন কাতার বিশ্বের সেরা মধ্যস্থতাকারী?
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি থেকে শুরু করে গাজা সংকট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আল থানির দক্ষতা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে যোগাযোগের এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কাতার। সম্প্রতি প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে দোহা-র দৌত্যেই তেহরানে যুদ্ধ সমাপ্তির শর্তাবলী চূড়ান্ত হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দেওয়া।
আল থানির সফলতার ডায়েরি:
গাজা যুদ্ধবিরতি (২০২৫): দোহা-র মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের দীর্ঘ ১৫ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের অবসান ঘটে এবং ৩৩ জন জিম্মি মুক্তি পান।
আফগান সংকট: ২০২১ সালে তালেবানদের কাবুল দখলের পর মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষিত উদ্ধার এবং তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র দোহা শান্তি চুক্তিতে কাতারের ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
ভেনিজুয়েলা আলোচনা: আমেরিকা ও ভেনিজুয়েলার মধ্যে গোপন আলোচনার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো জটিল কাজটিও সম্পন্ন করেছে আল থানির নেতৃত্বাধীন কাতার।
এক দীর্ঘ ইতিহাস ও দূরদর্শিতা:
মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে কাতারের ইতিহাস কিন্তু নতুন নয়। ২০০৭ সালের ইয়েমেন সংঘাত থেকে শুরু করে লেবানন, সুদান, জিবুতি এবং চাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটাতে গত দুই দশকে কাতার বারংবার সফল হয়েছে। শেখ আল থানি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান ও কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-এর প্রধান হিসেবে বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমেও নিজের প্রভাব বিস্তার করেছেন।
২০০৩ সালে কাতার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ আল থানি আজ বিশ্বমঞ্চে এক ‘শান্তির দূত’ হিসেবে স্বীকৃত। গাজা থেকে আফগানিস্তান, ভেনিজুয়েলা থেকে ইরান—যখনই আমেরিকা কোনো কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে, তখনই কাতার এবং শেখ আল থানি আলোচনার টেবিলে একটি সমঝোতা খুঁজে বের করেছেন। আধুনিক ভূ-রাজনীতিতে কাতার এখন আমেরিকার জন্য এক অপরিহার্য কূটনৈতিক অংশীদার, যা বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।