মুম্বাইয়ে নজিরবিহীন চিকিৎসা! সিটি স্ক্যান করে সুস্থ করা হলো আহত কোবরাকে

বনজঙ্গলের চিকিৎসার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত খুলে দিল মুম্বাই। সম্প্রতি চেম্বুরের একটি নির্মাণস্থলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় একটি ‘ইন্ডিয়ান স্পেকট্যাকল্ড কোবরা’। সেই সাপটিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিটি স্ক্যান করার মাধ্যমে নিখুঁত চিকিৎসা প্রদান করেছেন পশু চিকিৎসকরা। সুস্থ হয়ে ওঠার পর সাপটিকে ফের প্রাকৃতিক আবাসে অর্থাৎ জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসায় এল আধুনিক প্রযুক্তি
শুরুতে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পশু চিকিৎসক ড. দীপা কাত্যালের তত্ত্বাবধানে সাপটিকে ফ্রেডনা ভেট ডায়াগনস্টিকস (FVD)-এ পাঠানো হয়। আঘাতের সঠিক উৎস শনাক্ত করতে বিশেষজ্ঞ দল সিদ্ধান্ত নেন, সাপটির সিটি স্ক্যান করা প্রয়োজন। তবে জীবন্ত সরীসৃপের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ নড়াচড়া করলে সঠিক ছবি পাওয়া অসম্ভব।

কীভাবে সম্পন্ন হলো এই জটিল প্রক্রিয়া?

বিশেষ সতর্কতা: জেনারেল এস্থেশিয়া বা অবশ করার ঝুঁকি এড়াতে সাপটিকে একটি বিশেষ ‘লোকাল নার্ভ ব্লক’ দেওয়া হয়। এতে সাপটি শান্ত ও স্থির থাকে, অথচ তার শারীরিক প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি: হাই-রিজোলিউশন থিন-সেকশন ইমেজিং এবং মাল্টিপ্ল্যানার রিকনস্ট্রাকশন পদ্ধতির মাধ্যমে সাপটির শরীরের পেছনের অংশের সূক্ষ্ম চিত্র সংগ্রহ করা হয়।

রোগ নির্ণয়: এই স্ক্যান থেকেই জানা যায়, সাপটির ডানদিকের একটি পাঁজরে ফ্র্যাকচার হয়েছে। এছাড়া শরীরের ভেতরের দেয়ালে একাধিক ‘এয়ার পকেট’ এবং সফট টিস্যুতে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ধরা পড়ে।

বন্যপ্রাণী চিকিৎসায় নতুন দিশা
ফ্রেডনা ভেট ডায়াগনস্টিকস-এর বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্যপ্রাণী ও ভিনদেশি প্রজাতির চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। সিটি স্ক্যান রিপোর্টের ভিত্তিতেই সঠিক চিকিৎসা করা সম্ভব হয়, যার ফলে সাপটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে।

শেষমেশ সকল আইনি প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোবরাটিকে তার প্রকৃত আবাসস্থল জঙ্গলে ছেড়ে আসা হয়েছে। মুম্বাইয়ের এই ঘটনা কেবল পশুপ্রেমিদের মন জয় করেনি, বরং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও এক নতুন নজির তৈরি করেছে।