ফরেনসিক ল্যাবে মদন মিত্রের মোবাইল! পৌর নিয়োগ দুর্নীতিতে ফাঁসলেন কামারহাটির বিধায়ক?

পৌর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের ওপর চাপ আরও বাড়ল। শনিবার দীর্ঘ আট ঘণ্টা ধরে তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির আধিকারিকেরা। বিধায়কের দক্ষিণেশ্বরের বাড়ি থেকে শুরু করে ভবানীপুর এবং জোকার ফ্ল্যাটে এদিন চলেছে ম্যারাথন অভিযান। ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথিপত্র এবং ব্যবসায়ীদের মোবাইল নম্বর উদ্ধার হয়েছে, যা এই দুর্নীতির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।
বিছানার নিচে টাকা ও নথি! তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দক্ষিণেশ্বরের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় বিছানার তলা থেকে নগদ টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করেছেন আধিকারিকেরা। এছাড়া, ভবানীপুরের ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ রোডের বাড়িতেও ইডির টিম পৌঁছে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পায়। জোকার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙেও চালানো হয় তল্লাশি অভিযান। যদিও সেখানে বিশেষ কিছু পাওয়া না গেলেও, ফ্ল্যাটে নতুন তালা লাগিয়ে দিয়ে আসেন আধিকারিকেরা।
ফরেনসিকে বিধায়কের মোবাইল তদন্তের স্বার্থে মদন মিত্রের বাড়ি থেকে পাওয়া মোবাইল ফোনটিকে ইতিমধ্যে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও নথিগুলি থেকে কোনো বড় তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। অয়ন শীলের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া ৬০টি পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত নথির সূত্র ধরেই মূলত মদন মিত্র এখন ইডির স্ক্যানারে।
আট ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশি শনিবার সকাল ৭টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশকে সাথে নিয়ে ইডির আধিকারিকেরা পৌঁছান বিধায়কের বাড়িতে। একটানা আট ঘণ্টা ধরে চলে জেরা ও তল্লাশি প্রক্রিয়া। দুপুর তিনটে নাগাদ আধিকারিকেরা বেরিয়ে যান। উল্লেখ্য, এর আগে এই একই মামলায় সিবিআইও বিধায়কের ভবানীপুরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। এখন ইডির এই দীর্ঘ তল্লাশি এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্র মদন মিত্রের আইনি জটিলতা কতটা বাড়াবে, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।
তদন্তের প্রেক্ষাপট ২০২৩ সালে অয়ন শীলের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক ওএমআর শিট ও চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা উদ্ধার হয়েছিল। সেই তালিকায় কামারহাটিসহ একাধিক পুরসভার নাম উঠে আসায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি এই বিধায়কের দিকে মোড় নেয়। এখন ফরেনসিক রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।