তৃণমূল ছাড়ার গুঞ্জন তুঙ্গে! দিল্লি যাওয়ার আগে রহস্যময় মন্তব্যে কী বোঝাতে চাইলেন সায়নী?

একসময় যাঁর পরনে থাকতো শাড়ি, কপালে বড় টিপ আর গলায় শোনা যেত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আগ্রাসী রাজনৈতিক সুর, সেই সায়নী ঘোষকেই রবিবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন অবতারে। জিন্স-কুর্তি ও ছোট করে ছাঁটা চুলে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া যাদবপুরের সাংসদের এই ‘মেকওভার’ এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।

রহস্যময়ী সায়নী: “সময় এলে সব বলব” রবিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়নী তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিলেও, রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “এখন বলব না। যখন সময় আসবে, তখন বলব। সাংবাদিকদের জবাব দেব না, জবাব দিতে হলে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে যে, তৃনমূলের সাথে তাঁর দূরত্ব এখন চরমে।

বিক্ষুব্ধ শিবিরের সাথে যোগসূত্র? তৃণমূলের যুব সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতির পরই সায়নীর এই প্রকাশ্য আবির্ভাব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বাধীন যে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী পৃথক ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে, সেই তালিকায় সায়নীর নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে সায়নীর সম্মতি থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দলের সাথে তাঁর বিচ্ছেদ এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নাকি কেবল ফ্যাশন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সায়নীর এই নতুন লুক কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তন নয়, বরং এটি তাঁর পুরনো রাজনৈতিক সত্তা থেকে বেরিয়ে আসার এক নীরব বার্তা। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই দলের অন্দরে যেভাবে তাঁর অনুপস্থিতি নজরে এসেছিল, তা থেকেই স্পষ্ট ছিল যে দলের সাথে তাল মেলাতে পারছেন না তিনি। এখন শাড়ি-টিপ ছেড়ে জিন্স-কুর্তিতে দিল্লির বিমানে পা রাখা সায়নী শেষ পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

সোমবার কি চূড়ান্ত ঘোষণা? আগামী সোমবার দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের ‘ঘাসফুল’ ছেড়ে সায়নী কি অন্য কোনো শিবিরে নাম লেখাবেন, নাকি নিজের আলাদা কোনো পথ বেছে নেবেন? সেই উত্তর পাওয়ার জন্য হয়তো আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতেই হবে।