TMC-পুরপ্রধানের ছেলেকে চড়, ডিমবৃষ্টির জনতার, দেখেনিন ভিডিও

নৈহাটির পুরপ্রধান অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে শনিবার বারাকপুর আদালতে চরম উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশি নিরাপত্তা ভেঙে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। আদালতের বাইরে ‘চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে চত্বর। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ভাইরাল।
কী ঘটেছিল আদালতে? শুক্রবার রাতে সোদপুরের একটি আবাসন থেকে অভিজিৎকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার তাঁকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার জন্য নিয়ে আসা হয়। আদালত চত্বরে আগে থেকেই বিক্ষোভকারীদের একাংশ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন। পুলিশি ভ্যান থেকে নামানোর পরই শুরু হয় তীব্র বিশৃঙ্খলা। অভিযোগ, পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই বিক্ষোভকারীরা তাঁর দিকে ডিম ও জুতো ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ। ধস্তাধস্তির মাঝে কোনোমতে তাঁকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিজিতের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ? ধৃত অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ এবং ভয়াবহ। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে:
-
#WATCH | North 24 Parganas, West Bengal | Avijit Chatterjee, son of Naihati Municipal Chairman Ashok Chatterjee has been arrested by Naihati Police on charges including attempted murder, rape, threat, extortion, illegal arms hold and violations of the Arms Act and the Explosives… pic.twitter.com/cvF3HSFoi5
— ANI (@ANI) June 13, 2026
গুরুতর অপরাধ: খুনের চেষ্টা, ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকি।
-
অর্থনৈতিক অপরাধ: তোলাবাজি বা এক্সটর্শন।
-
আইনি লঙ্ঘন: বেআইনি অস্ত্র রাখা, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ।
রাজনৈতিক উত্তাপ: ঘটনার পর থেকেই বারাকপুরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অভিজিতের কুকীর্তিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমেছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এফআইআর-এ উল্লিখিত সমস্ত গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। আদালতের বাইরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।