“অভিষেক তৃণমূলের ক্যান্সার!” দল ছাড়ার হিড়িকের মাঝে বিস্ফোরক ঋজু দত্ত

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন কোনোভাবেই নেভানো যাচ্ছে না। দল ছেড়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন একের পর এক নেতা, সাংসদ, বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রীরা। এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করলেন বহিষ্কৃত নেতা তথা প্রাক্তন মুখপাত্র ঋজু দত্ত।

বিস্ফোরক ঋজু দত্তের তোপ দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন ঋজু। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “অভিষেক তৃণমূলের ক্যান্সার। তাঁকে কেটে বাদ না দিলে দলটা আর বাঁচবে না।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ঋজু দত্তের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। মমতা-অভিষেক ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেত্রী সায়নী ঘোষ এবং সাংসদ ইউসুফ পাঠানের মতো হাই প্রোফাইল নেতাদের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো দলটির ভিত যে নড়বড়ে করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের অন্দরে চলা এই গণ-পদত্যাগের স্রোতে বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রাক্তন মন্ত্রী—সব স্তরের নেতারাই সামিল হয়েছেন।

পিসি-ভাইপোর অস্বস্তি একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে বারবার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির হানা—সব মিলিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চরম চাপে। তার ওপর দলের ভেতর থেকে আসা এই ক্রমাগত আক্রমণ তৃণমূলের অন্দরের গৃহবিবাদকে প্রকাশ্যে নিয়ে এল।

ঋজু দত্তের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কি তবে ভাঙনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে? নাকি নেতৃত্বের অন্দরে এই বিদ্রোহ নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে?