অখণ্ড কংগ্রেসের পথে রাজনীতি? মমতা-পওয়ারের ‘ঘর ওয়াপসি’র জল্পনায় তোলপাড় দেশ

রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র জল্পনা—ফের কি পুরোনো ঠিকানায় ফিরতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শরদ পওয়ার? তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং এনসিপি (এনসিপি-এসপি) কি কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে গিয়ে ফের ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ গড়ে তুলতে চলেছে? প্রকাশ্যে এই জল্পনা অস্বীকার করলেও, কংগ্রেসের অন্দরে ও বিরোধী জোটের বিভিন্ন স্তরে যেভাবে ‘ঘর ওয়াপসি’র সুর শোনা যাচ্ছে, তাতে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

যা বলছেন কংগ্রেস নেতারা:
দিল্লিতে কেসি বেণুগোপাল তৃণমূলের সাথে মিশে যাওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতা নানা পাটোলে কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “সম-মনস্ক দলগুলি কংগ্রেসের সঙ্গে এক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শরদ পওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি নিয়ে মনস্থির করছেন।” অর্থাৎ, শুধু জোট নয়, বরং ছোট ছোট আঞ্চলিক দলগুলো মূল দলে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

অখণ্ড কংগ্রেসের দাবি ও গেহলটের বার্তা:
রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, “কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হওয়া আঞ্চলিক দলগুলোর উচিত নিজেদের অহং বিসর্জন দিয়ে কংগ্রেসে ফিরে আসা এবং রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া।” গেহলটের মতে, নরেন্দ্র মোদীর বিপরীতে রাহুল গান্ধীকে একমাত্র ‘মুখ’ হিসেবে তুলে ধরতে পারলে তবেই দেশের ভোটিং প্যাটার্ন বদলানো সম্ভব।

কেন এই জল্পনা?
শরদ পওয়ার (১৯৯৯) এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯৯৮)—উভয়েই কংগ্রেসের গর্ভ থেকে বেরিয়ে আলাদা দল তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে শরদ পওয়ারের দল ভাঙনের শিকার। অন্যদিকে, রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরেও অস্থিরতা চরমে। দলত্যাগ, ইস্তফা এবং আলাদা ফ্রন্ট গড়ার চেষ্টায় শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা এনসিপি-র ভাঙনের সমান্তরাল। এই পরিস্থিতিতে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেকেই অখণ্ড কংগ্রেসের ছাতার নিচে ফিরে আসাকেই শ্রেয় মনে করছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
শরদ পওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে এই প্রস্তাবকে ‘ভালো’ বললেও, শেষ পর্যন্ত মমতা বা পওয়ার কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ ভাঙন সামলাতে ‘অখণ্ড কংগ্রেস’ ধারণাটি এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের প্রধান তুরুপের তাস।

তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙনের সুর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক সরে দাঁড়াচ্ছেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের তৈরি দল টিকিয়ে রাখবেন, নাকি ‘ঘর ওয়াপসি’র পথে হাঁটবেন—তা এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।