নেহরুর রেকর্ড ভাঙলেন মোদী! নতুন মাইলফলকের দিনেই বিজেপি-কংগ্রেসের তীব্র সংঘাত

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জওহরলাল নেহরুকে টপকে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়লেন নরেন্দ্র মোদী। এই মাইলফলক স্পর্শ করার দিনেই কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। মোদীর সাফল্য উদযাপনের মাঝেই রাহুল গান্ধীর আক্রমণ ও বিজেপির পাল্টা তোপ জাতীয় রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

কী বললেন রাহুল গান্ধী?
দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের গরিব, কৃষক এবং যুবসমাজকে ‘ছারখার’ করে দিয়েছেন। রাহুলের দাবি, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতিই দায়ী। কংগ্রেস নেতার হুঙ্কার, এই ব্যর্থতা নিয়ে লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীকে মুখ খুলতে বাধ্য করতে হবে।

বিজেপির পাল্টা জবাব:
কংগ্রেসের এই আক্রমণের জবাবে বিজেপি মুখপাত্র শাহজাদ পুনাওয়ালা ও প্রদীপ ভাণ্ডারী একযোগে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। শাহজাদ পুনাওয়ালা রাহুলকে ‘লিডার অব অপজিশন’-এর পরিবর্তে ‘লিডার অব প্রোপাগান্ডা অ্যান্ড প্যানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, রাহুল গান্ধী দেশের অর্থনীতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর কাজ করছেন। প্রদীপ ভাণ্ডারী তো এক ধাপ এগিয়ে রাহুলকে ‘রাজনৈতিক নৈরাজ্যবাদী’ বলে কটাক্ষ করেন। বিজেপির দাবি, রাহুল গান্ধী দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ধ্বংস করতে মরিয়া।

মোদীর ঐতিহাসিক রেকর্ড:
বুধবার মোদী একটানা ৪ হাজার ৩৯৯ দিন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার নজির গড়লেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল জওহরলাল নেহরুর দখলে (৪ হাজার ৩৯৮ দিন)। এই সাফল্যে বিশ্বজুড়ে অভিনন্দন বার্তা পাচ্ছেন মোদী। তবে এই উদযাপনের আবহে কংগ্রেস ১২ বছরের একটি ‘প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব’ খতিয়ান প্রকাশ করেছে। হাত শিবিরের দাবি, গত ১২ বছরে বিজেপি সরকার শুধু ফাঁকা বুলি দিয়েছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

রাজনীতির অলিন্দে:
একদিকে মোদীর দীর্ঘতম মেয়াদের রেকর্ড, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর প্রবল আক্রমণ—সব মিলিয়ে দিল্লির মসনদে এই মুহূর্তে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে। মোদীর পাশেই ১৪০ কোটি দেশবাসী রয়েছেন বলে দাবি করছে বিজেপি, অন্যদিকে কংগ্রেস রাজপথে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।