লোকসভায় ‘আসল তৃণমূল’ হওয়ার দাবি বিদ্রোহী ১৯ সাংসদের, মমতা-অভিষেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার লোকসভাতেও নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি তৃণমূল। লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়ে ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদ নিজেদের আলাদা সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি এবং ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দলের প্রতীক ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।
কে কোন পক্ষে?
তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জন মমতা-অভিষেক শিবিরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন। বিদ্রোহী শিবিরে রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান ও পার্থ ভৌমিকের মতো হেভিওয়েট নেতারা। অন্যদিকে, মমতা-অভিষেকের মূল শিবিরে বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৯ জন সাংসদ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র ও শত্রুঘ্ন সিনহা।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ও কৌশল:
১৮ মে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই বিদ্রোহীরা চিঠি জমা দেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না, বরং বাংলার স্বার্থে সংসদে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চান। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দলের প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই গড়াতে পারে। মজার বিষয় হলো, ১৯ মে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ নিযুক্ত করা হলেও তার আগের দিনই স্পিকারের কাছে আবেদনটি জমা পড়ায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য:
দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঔদ্ধত্য’ নিয়ে তীব্র আক্রমণ করে তিনি সরাসরি দলনেত্রীকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন— “মমতাদিকে বেছে নিতে হবে, আমি না অভিষেক!” বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেকের মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূলের বর্তমান সংকটের মূল কারণ অভিষেকের কার্যপদ্ধতি।
রাজনৈতিক জল্পনা:
তৃণমূলের অন্দরের এই চরম ডামাডোল এখন রাজ্য রাজনীতিতে প্রধান আলোচনার বিষয়। দলের প্রবীণ সাংসদরা যেভাবে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন এবং আলাদা গোষ্ঠীর দাবি তুলেছেন, তা ঘাসফুল শিবিরের জন্য মারাত্মক সংকেত। স্পিকার এই ১৯ জনের গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেন কি না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেন, এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক নজর সেদিকেই।