পেট্রোল পাম্পে বড় পরিবর্তন! বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য এবার কড়া নিষেধাজ্ঞা

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় কমাতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা আর খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে সরাসরি তেল কিনতে পারবেন না। তাদের জ্বালানির জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত ‘বাল্ক চ্যানেল’ (Bulk Channel) ব্যবহার করতে হবে। তবে সাধারণ গ্রাহক বা ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের ওপর এই নির্দেশের কোনো প্রভাব পড়বে না।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
বর্তমানে খুচরো এবং পাইকারি বা বাল্ক দরের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লিতে খুচরো ডিজেলের দাম প্রায় ৯৫.২০ টাকা হলেও, বাল্ক বা পাইকারি ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৪.৫০ টাকা। এই বিশাল দামের পার্থক্যের কারণে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংস্থা সস্তায় খুচরো পাম্প থেকে তেল কিনছিল, যা বাজারে জোগানের ভারসাম্য নষ্ট করছিল। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্র এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
নতুন নিয়মের মূল দিকগুলো:
সাময়িক নিষেধাজ্ঞা: এই নিয়ম আপাতত ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সরকার এই মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে।
বিক্রিতে কড়াকড়ি: এখন থেকে তেল শুধুমাত্র নির্দিষ্ট গাড়ি বা ট্যাঙ্কেই ভরা যাবে। ‘পেসো’ (PESO) অনুমোদিত পাত্র ছাড়া তেল দেওয়া নিষিদ্ধ।
সীমা নির্ধারণ: খুচরো পাম্প থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পুনর্বিক্রয় নিষিদ্ধ: পাম্প থেকে কেনা তেল পুনরায় বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বার্তা:
কেন্দ্র সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানির মজুদ নিশ্চিত করা হবে। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা আগের মতোই যেকোনো পাম্প থেকে তেল নিতে পারবেন।
কালোবাজারি রুখতে নজরদারি:
কেন্দ্রের নির্দেশে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির কালোবাজারি বা অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বা জরুরি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার পথও খোলা রেখেছে সরকার।