জ্যাকুলিনের ২০০ কোটির মামলায় বড় মোড়! শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

২০০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতি ও পাচার মামলায় বলিউডের অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের আইনি লড়াইয়ে এল বড়সড় মোড়। দিল্লি আদালতের দেওয়া অভিযোগ গঠনের নির্দেশের বিরুদ্ধে জ্যাকুলিন যে আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র।

কেন এই সিদ্ধান্ত? বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও অতুল এস চান্দুরকারের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির শুরুতেই বিচারপতি মিশ্র জানান, এই মামলার সাথে সম্পর্কিত অন্য একটি বিষয়ে তাঁর ছেলে সরকারের হয়ে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। স্বচ্ছতার স্বার্থেই তিনি এই শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, “কিছু অসুবিধার কারণে এই মামলাটি অন্য একটি বেঞ্চে পাঠানো হবে।” জানা গেছে, আগামী ২৫ জুন অন্য একটি বেঞ্চে মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য যে, ৩০ মে দিল্লির একটি নিম্ন আদালত ২০০ কোটি টাকার অর্থ পাচার মামলায় কথিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর এবং আরও ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী জ্যাকুলিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাখিল করা সম্পূরক চার্জশিটে জ্যাকুলিনকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে।

ইডি-র বিস্ফোরক অভিযোগ ইডি-র দাবি, জ্যাকুলিন নিয়মিত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সংস্পর্শে ছিলেন এবং সুকেশের সহযোগী পিঙ্কি ইরানির মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে দামি উপহার গ্রহণ করতেন। তদন্তকারী সংস্থাটির অভিযোগ, সুকেশ কারাগারের ভেতর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র চালাতেন। সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ছদ্মবেশ ধারণ করে, স্পুফড কল ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে অভিযোগকারী অদিতি সিং ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন সুকেশ।

এই জালিয়াতির মামলায় জ্যাকুলিনের নাম জড়ানোয় গত কয়েক বছর ধরেই তিনি আইনি টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিচারপতি পরিবর্তন হওয়ার ফলে আগামী ২৫ জুনের শুনানিতে পরবর্তী কী নির্দেশ আসে, এখন সেদিকেই নজর বলিউডের এবং আইন মহলের।