‘গুলি চালিয়ে মুখ বন্ধ করা যাবে না!’ পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন JKNIA প্রধান

পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (PoJK) ভিন্নমত দমন এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যালায়েন্সের (JKNIA) চেয়ারম্যান মাহমুদ কাশ্মীরি। ব্রিটেনে অবস্থিত পাকিস্তানি কনস্যুলেটের বাইরে প্রবাসী কাশ্মীরিদের এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, গুলি, হত্যা বা রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন চালিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতার আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।
কি বললেন মাহমুদ কাশ্মীরি? বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে মাহমুদ কাশ্মীরি অভিযোগ করেন, পাক প্রশাসন PoJK-এর সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। গ্রেফতারি, নির্যাতন এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গায়ের জোরে মানুষের অধিকারের দাবিকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রীয় শক্তি দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে চিরতরে শেষ করা যায় না।” সেই সঙ্গে তিনি পাকিস্তান সরকারকে বন্দুকের রাজনীতির পথ ছেড়ে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক অসন্তোষের সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রপাগান্ডার বিরুদ্ধে হুঙ্কার: আন্দোলনকারীদের সশস্ত্র কার্যকলাপে জড়িত বলে দাগিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা পাক সংবাদমাধ্যমের একাংশ করছে, তাকেও তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছেন মাহমুদ কাশ্মীরি। শওকত নওয়াজ মির ও উমর নাজিরের মতো আন্দোলনকারী নেতাদের উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এর মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন।
উত্তাল PoJK: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ক্রমাগত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ তীব্রতর হয়েছে। পাক সেনার সঙ্গে সংঘাত ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা নিয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের সমালোচনা বাড়ছে। এর মধ্যেই বিদেশের মাটিতে মাহমুদ কাশ্মীরির এই মন্তব্য PoJK পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি। ঐক্যবদ্ধ জনতার দাবিকে অস্বীকার করার সাধ্য কোনো রাষ্ট্রীয় শক্তির নেই।” বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।