দল ভাঙার মুখে তৃণমূল: ১০০০ কোটির বিশাল সম্পত্তি কার দখলে? নজরে তিন শক্তি!

বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই চরম ডামাডোলের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে নেতা-কর্মীদের দলবদল, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এই অস্থিরতার মাঝেই এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তৃণমূলের বিপুল সম্পদ এবং দল ভেঙে গেলে তার ভবিষ্যৎ।
হাজার কোটির সাম্রাজ্য: অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস অন্যতম ধনী রাজনৈতিক সংগঠন। দলের তহবিলে থাকা ১০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের বিদ্রোহ এবং ভাঙনের আঁচ স্পষ্ট হতেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল সম্পত্তি শেষ পর্যন্ত কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
নজরে ৩ পক্ষ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল যদি পুরোপুরি ভেঙে যায়, তবে এই বিশাল ঐশ্বর্যের ওপর কর্তৃত্ব বজায় রাখা নিয়ে মূলত তিনটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে:
১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা: দলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থান ও পদক্ষেপই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কীভাবে দলের মূল কাঠামো এবং তহবিল রক্ষা করেন, তার ওপরই সব নির্ভর করছে। ২. বিদ্রোহী গোষ্ঠী: দলের অন্দরে যারা নতুন নেতৃত্ব বা বিকল্প তৃণমূল গড়ার দাবি তুলছেন, সেই অংশটিও কি এই সম্পদের একাংশ দাবি করবে? রাজনৈতিক মহলের অন্যতম চর্চার বিষয় এটাই। ৩. আইনি ও বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ: রাজনৈতিক দল ভেঙে গেলে তার তহবিলের আইনি উত্তরাধিকার নির্ধারণে নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত কার্যত নড়বড়ে। সই জালিয়াতি কাণ্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা—সব মিলিয়ে চাপে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। একদিকে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিআইডি-তে হাজিরা নিয়ে শোরগোল চলছে, অন্যদিকে তখনই দলের অভ্যন্তরীণ সম্পদের মালিকানা নিয়ে এই জল্পনা তৃণমূলের সংকটকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে দলটির ভবিষ্যৎ এবং তাদের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য অক্ষত থাকে কি না, নাকি তা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে ভাগ হয়ে যায়—এখন সেটাই দেখার বিষয়।