“৫ সেকেন্ডে ১০ রাউন্ড গুলিতে ঝাঁঝরা”-জিম মালিককে গুলি করে খুন করল বিষ্ণোই গ্যাং

রাজধানীর পশ্চিম ভিরার এলাকায় সুর ও বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ গুরু রণধাওয়ার মালিকানাধীন একটি ফিটনেস ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি জিমে দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে এসেছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর।

কী ঘটেছিল? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে মুখ ঢাকা অবস্থায় মোটরবাইকে করে দুই দুষ্কৃতী পশ্চিম ভিরারের ওই জিমের সামনে এসে পৌঁছায়। এরপর তারা জিম লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনী।

কেন এই হামলা? হামলার দায় স্বীকার করেছে স্বয়ং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সরাসরি দাবি করেছে, অভিনেতা সলমন খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই গুরু রণধাওয়ার জিমকে লক্ষ্য করে এই ‘সতর্কবার্তা’ পাঠানো হয়েছে। তবে লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে সবরমতী জেলে বন্দি থাকলেও, তাঁর নির্দেশে বা তাঁর নামে এমন একের পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার প্রশ্নটি বড় আকার ধারণ করেছে।

সতর্কতায় পুলিশ: দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যে ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং জিম পরিচালনাকারী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে। সলমন খানের মুম্বইয়ের বাসভবনের সামনে গুলি চালানোর ঘটনা এবং বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের পর, এবার গুরু রণধাওয়ার জিমে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে যে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের দাপট কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

কৃষ্ণসার হরিণ বিতর্ক: উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে সলমন খানের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই অভিনেতা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের হুমকি দিয়ে আসছে এই গ্যাং। বারবার জেলে বসেই সলমনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে লরেন্স। সেই একই ছকে এবার গুরু রণধাওয়ার জিমকে নিশানা করায় বিনোদন দুনিয়ায় নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

এই ঘটনার পর থেকে তারকার নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে।